একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের কাছে মাসের শেষের দিকে এবং নতুন মাস শুরুর দিকে মাসিক বেতুন হিসেব করার একটি উৎসবের মতো শুরু হয়। অনেকেই অন্যের কাছ থেকে বেতুন হিসেব করে নিয়ে থাকেন। নিজের মাসিক বেতুন ভাতা হিসেব যদি নিজেই করতে পারতেন তাহলে হয়তো, সময় নষ্ট করে অন্যের কাছে যেতে হতো না। এছাড়াও মালিক পক্ষ আপনাকে ঠকাতেও পারতো না। আমরা অনেকেই আছি দীর্ঘদিন থেকে গার্মেন্টস এ কাজ করি কিন্তু আমাদের মোট মুজিরী, মূল বেতুন, ওভারটাইম রেট, অন্যান্য ভাতা বাড়ি ভাড়া, বাৎসরিক বেতুন বিদ্ধি, ছুটির টাকা ঈদ বোনাস ইত্যাদি হিসেব করতে পারিনা। তাই আপনাদের কথা ভেবেই আমি আজকে গার্মেন্টস এর মাসিক বেতুন, ওভারটাইম রেট, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, ঈদ বোনাস সকল কিছুর হিসেব করার নিয়ম হাতে কলমে শিখিয়ে দিব। আপনাকে শুধু মনোযোগ সহকারে এই আর্টিকেলটা পড়তে হবে এবং খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে। এতে করে একবার হিসেব করা শিখলে আর ভুলবেন না। তো চলুন মূল বিষয়ের দিকে যাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে বিস্তারিত যেনে নেই।
কেননা এগুলি মাসিক মোট মুজুরী হিসেব করার সময় কাজে লাগাবে।
মাসিক মোট মজুরী কি?একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের এক মাসের অর্জনকৃত ওভারটাইম, উৎপাদন বোনাস, উপস্থিত ভাতা, অনুপস্থিত কর্তন, নাস্তা বিল ও অন্যান্য কর্তন সহ মোট যে টাকা হাতে পায়, সেটাই হলো একজন গার্মেন্ট শ্রমিকের মাসিক মোট মজুরী। যেমন আমার এই মাসের মাসিক মোট মজুরী পেয়েছি ২২৫০০ টাকা।
মূল বেতুন বা বেসিক কি?
বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ওভারটাইম এর অর্জনকৃত টাকা এবং বাড়ি ভারা বাদদিয়ে যে টাকা থাকে সেটাই বেসিক বা মূল বেতুন হিসেবে গন্য হয়।
ওভারটাইম রেট কি?
জেনারেল ডিউটি বা ৮ ঘণ্টা ডিউটি এর পর অতিরিক্ত যে কর্মঘণ্টা, তার জন্য ঘন্টা প্রতি যে মুজুরী পাওয়া যায় সেটাই ওভারটাইম রেট।
উপস্থিত ভাতা কি?
একজন শ্রমিকের প্রত্যেক কর্ম দিবসে সঠিক সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার জন্য যে ভাতা প্রদান করা হয় সেটিই মূলত উপস্থিত ভাতা।
তো বন্ধুরা আশাকরি উপরে উল্লেখিত বিষয় গুলি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা হয়েছে। এবার আমরা ২০২৩ সালের গেজেট অনুযায়ী সর্বশেষ নির্ধারিত গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতুন শীট দেখবো, হিসেবে ক্ষেত্রে এগুলি কাজে লাগবে। আমি ২০২৩ সালের বেতুন শীট নিচে টেবিল আকারে দিলাম, দেখে নিন।
গ্রেড মূল বেতন বাড়ি ভাড়া চিকিৎসা ভাতা যাতায়াত ভাতা খাদ্য ভাতা সর্বমোট গ্রেড-১ ৮২০০ ৮৫০০ ৯৬০ ২৬০ ১২৮০ ১৮৯৫০ গ্রেড-২ ৭৮০০ ৬৫০০ ৯৫০ ৫২০ ১২৮০ ১৮১৫০ গ্রেড-৩ ৭৮০০ ৩৯০০ ৯৫০ ৮২০ ১২৮০ ১৪৬৬০ গ্রেড-৪ ৭০০০ ৩৫০০ ৯৫০ ৮২০ ১২৮০ ১৩০১২ গ্রেড-৫ ৬৯০০ ৩৩০০ ৯৫০ ৫২০ ১২৮০ ১২৯০০ উপরে টেবিলে দেখে থাকবেন চারটি গ্রেড রয়েছে যথাক্রমে গ্রেড ১, গ্রেড ২ , গ্রেড ৩ ,গ্রেড ৪ ও গ্রেড ৫ এবং সেগুলির মূল বেতুন , বাড়ি ভাড়া আলাদা কিন্তু অন্য সকল কিছু একই। আর এই অপরিবর্তিত অংশ গুলিকে আমরা মূলত ভাতা হিসেবে জানগ্রেড কী এবং কেন ব্যবহার করা হয়?চাকরির ক্ষেত্রে গ্রেড বলতে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বেতন ও পদমর্যাদার স্তরকে বোঝায়।
একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদের দায়িত্ব, যোগ্যতা ও বেতন এক রকম হয় না। তাই পদগুলোকে আলাদা আলাদা
স্তরে ভাগ করা হয়, আর প্রতিটি স্তরকে একটি গ্রেড দেওয়া হয়।
সহজভাবে বললে, একজন কর্মী কোন বেতনস্তর বা পদস্তরে রয়েছেন, তা বোঝার জন্যই গ্রেড ব্যবহার করা হয়।
একটি গ্রেডের সঙ্গে নির্দিষ্ট মূল বেতন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা যুক্ত থাকতে পারে।
গ্রেড কেন দরকার?
একটি প্রতিষ্ঠানে অনেক ধরনের পদ থাকতে পারে। কোনো পদের দায়িত্ব বেশি, কোনো পদের যোগ্যতার প্রয়োজন বেশি,
আবার কোনো পদের কাজ তুলনামূলকভাবে কম দায়িত্বের হতে পারে। এসব পার্থক্য অনুযায়ী বেতন কাঠামো সাজাতে
গ্রেড ব্যবহার করা হয়।
যেমন, একটি প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোতে গ্রেড-১, গ্রেড-২, গ্রেড-৩, গ্রেড-৪ ও গ্রেড-৫ থাকতে পারে।
প্রতিটি গ্রেডের জন্য আলাদা মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতার হার নির্ধারণ করা হতে পারে।
গ্রেডের সঙ্গে কী কী বিষয় যুক্ত থাকতে পারে?
কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো অনুযায়ী একটি গ্রেডের সঙ্গে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কিত থাকতে পারে:
- মূল বেতন
- বাড়ি ভাড়া ভাতা
- চিকিৎসা ভাতা
- যাতায়াত ভাতা
- খাদ্য বা অন্যান্য ভাতা
- বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি
- পদোন্নতির পর বেতন নির্ধারণ
একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন, কোনো প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মী গ্রেড-৩-এ কাজ করছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোতে
গ্রেড-৩-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল বেতন রয়েছে। এর সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা বা
অন্যান্য ভাতা যোগ হয়ে কর্মীর মোট বেতন নির্ধারিত হতে পারে।
তাই শুধু গ্রেডের নাম দেখলেই মোট বেতন জানা যায় না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো এবং ওই গ্রেডের
জন্য নির্ধারিত ভাতাগুলোও দেখতে হয়।
মনে রাখবেন: সব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় গ্রেডের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রেডকে সরাসরি সরকারি বেতন গ্রেড হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
অনেক কিছুই জেনেছি এখন হাতে কলমে হিসেব শেখার পালা। প্রথমেই শুরু করবো বেসিক মজুরী থেকে।
গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন হিসেব করার নিয়মহিসেব শুরু করার আগে আমাদেরকে অবশ্যই মোট মুজুরী জানতে হবে গ্রেড অনুযায়ী, যা ইতিপূর্বে আমি টেবিলে উল্লেখ্য করে দিয়েছি। তবে অনেকের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট হয়ে গ্রেড এর থেকে বেতন কম বা বেশি হতেই পারে। সেক্ষেত্রে আপনি তো আপনার টা জানবেই ঐ। তাই চিন্তার কোনো কারণ দেখছিনা।
মাসিক মোট বেতন থেকে মূল বেতন হিসেব
মাসিক মোট বেতন থেকে মূল বেতন বা বেসিক বের করার জন্য মাসিক মোট বেতন থেকে সকল ভাতা বিয়োগ করতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে বিষয়গুলি কে আমি সূত্রের আকারে উপস্থাপন করবো। যাতে করে আপনাদের বুঝতে সুবিধে হয়।
মাসিক মোট বেতন থেকে মূল বেতন বা বেসিক হিসেব করার সূত্র:
মূল বেতন বা বেসিক= { মাসিক মোট বেতন − (চিকিৎসা ভাতা + খাদ্য ভাতা + যাতায়াত ভাতা) } ÷ ১.৫
অর্থাৎ, প্রথমে মাসিক মোট বেতন থেকে চিকিৎসা, খাদ্য ও যাতায়াত ভাতা বাদ দিতে হবে। এরপর প্রাপ্ত
পরিমাণকে ১.৫ দিয়ে ভাগ করলে বেসিকের পরিমাণ পাওয়া যাবে।
ইতিমধ্যে উপরের টেবিলে আমরা দেখছি সকল গ্রেডের ক্ষেতেই ভাতা গুলি একই।
যেমন: খাদ্য ভাতা=১২৫০, চিকিৎসা ভাতা= ৭৫০, যাতায়াত ভাতা=৪৫০ টাকা
এবার একটা উদাহরন দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাক।
উদাহরণ: মাসিক মোট বেতন থেকে বেসিক বেতন হিসাব
ধরুন, একজন শ্রমিকের মাসিক মোট বেতন ১২,৫০০ টাকা।
এখন নির্দিষ্ট সূত্র অনুযায়ী তার বেসিক বা মূল বেতন কত হবে, তা হিসাব করা যাক।
সূত্র অনুযায়ী:
বেসিক বেতন = {১২,৫০০ − (৭৫০ + ১,২৫০ + ৪৫০)} ÷ ১.৫
= (১২,৫০০ − ২,৪৫০) ÷ ১.৫
= ১০,০৫০ ÷ ১.৫
= ৬,৭০০ টাকা
অতএব, এই সূত্র অনুযায়ী ঐ শ্রমিকের মূল বা বেসিক বেতন হলো
৬,৭০০ টাকা।
বেসিক বা মূল বেতন থেকে বাড়িভাড়া বেরকরার নিয়ম
এখানেও বিষয়টিকে একটি সহজ সূত্রের মাধ্যমে হিসাব করা যায়।
বাড়ি ভাড়া = মূল বেতন ÷ ২
অর্থাৎ, ২০২৩ সালের সরকারি গেজেটের নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ভাতা মূল বেতনের অর্ধেক হবে।
উদাহরণ: উপরের হিসাব অনুযায়ী মূল বেতন পাওয়া গেছে ৬,৭০০ টাকা। এখন এই মূল বেতনকে ২ দিয়ে ভাগ করলে বাড়ি ভাতার পরিমাণ পাওয়া যাবে।
বাড়ি ভাড়া = ৬,৭০০ ÷ ২ = ৩,৩৫০ টাকা
বেসিক থেকে ওভারটাইম রেট বের করার নিয়ম
মূল বেতনকে ১০৪ দিয়ে ভাগ করে ঘণ্টা প্রতি ওভারটাইম রেট নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে তাহলে সূত্রটা হবে,
ওভারটাইম রেট= মূল বেতন/১০৪
উদাহরন: আবারো আমরা উপরের উদাহরণে পাওয়া মূল বেতন থেকেই ওভারটাইম রেট বের করে দেখাবো। তো মূল বেতন= ৬৭০০ কে ১০৪ দিয়ে ভাগ করে দেখুন । তো সূত্র মতে, ওভারটাইম রেট=৬৭০০/১০৪=৬৪.৪২ । তাহলে ওভারটাইম রেট পেলাম ৬৪.৪২ টাকা। মানে প্রতিঘন্টায় ঐ শ্রমিক পাবে ৬৪.৪২ টাকা।
অনুপস্থিত কর্তন হিসেব করার নিয়ম
একজন শ্রমিকের অনুপস্থিত কর্তন হবে তার মূল বা বেসিক বেতন থেকে। সূত্রের আকারে বানানলে দাড়ায়
অনুপস্থিত কর্তন= মূল বেতন/৩০
মানে মূল বেতন কে একমাসের সমান দিন দিয়ে ভাগ করতে হবে।
যেমন: ৬৭০০ টাকা বেসিকের উপস্থিত কর্তন=৬৭০০/৩০=২২৩.৩৩ টাকা। তাহলে ৩ দিন অনুপস্থিত হলে তার মোট কর্তন হবে=২২৩.৩৩*৩=৬৭০ টাকা।
গার্মেন্টস শ্রমিকের দুই ঈদ/উৎসব বোনাস হিসেবে করা শিখুন
২০২৩ সালের সরকারী গেজেটে অনুযায়ী ১ জন শ্রমিকের চাকরির বয়স সংশ্লিষ্ট কারখানায় ১ বছর পূর্ণ হলে সে ঈদ/উৎসব বোনাস পাওয়ার যোগ্য বলে গণ্য হবে। সে অনুযায়ী দুই ঈদ/উৎসব এ মোট মাসিক বেতনের সমান টাকা পাবে। মানে প্রত্যেক উৎসবে একটি করে বেসিক পাবে।
উদাহরণ: রহিম একটি কারখানায় ১.৫ বছর যাবত কর্মরত আছে এবং তারা মাসিক মোট বেতন ১২৫০০ তাহলে সে প্রত্যেক উৎসব/ঈদ এ ৬২৫০ টাকা করে পাবে।
বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হিসেব
বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট হয়ে থাকে পূর্ব নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট হার অনুযায়ী যেমন ২০২৩ সালের আগের গেজেট অনুযায়ী বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ছিলো ৫% কিন্তু বর্তমানে ২০২৩ অনুযায়ী বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট হার ৯% ।
নোট: বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট এর ক্ষেত্রে শুধু মূল বেতন ও বাড়ি ভাড়া বাড়বে, অন্য কোনো ভাতা এর মধ্যে পড়বেনা।
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টিকে সহজ করে বোঝিয়ে দিলাম।
ধরুন রহিমের বেতন ১২৫০০ টাকা,১ বছর পর তার বেতন বেড়ে কিন্তু ১৩৬২৫ টাকা হবে না। তাহলে কতো হবে?
আসলে আমরা উপরের হিসেবে মোট মাসিক বেতনের ৯% করেছিলাম । কিন্তু বেতন বাড়বে শুধু মূল বেতন ও বাড়ি ভাড়া। তাহলে এখন আমাদেরকে আগে মূল বেতন এবং বাড়ি ভাড়া বের করে নিতে হবে যা আমরা উপরের অংশে বের করে দেখিয়েছি। তো এখন শুধু মুলবেতন এবং বাড়িভাড়া যোগ করে তার ৯% এর সাথে মোট মাসিক বেতন যোগ করুন, তাহলেই এই বছরে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে যাবেন। বিষয় টিকে ছোট করার জন্য সূত্র আকারে দিলাম।
বাৎসরিক কতো বেতন বাড়বে= মোট মাসিক বেতন+(মূল বেতন+বাড়িভাড়া) % ৯ ।
তাহলে ১২৫০০ এর বেতন ৯% বেড়ে হবে=১২৫০০+(৬৭০০+৩৩৫০)%৯=১৩৪০৪ টাকা। আশাকরি এই বিষয়টি বুঝেছেন। না বুঝলে কমেন্ট করতে পারেন, অবশ্যই প্রয়োজনে আরো সাহায্য করবো।
মাসিক সর্বমোট মজুরীর হিসেব
এখন আমরা হিসেব করবো একজন গার্মেন্টস শ্রমিক তার সকল ভাতা সহ, অনুপস্থিতি থাকলে সেই কর্তন সহ, অর্জিত ওভারটাইম সহ কতো টাকা পাবে তার হিসেব করার নিয়ম। এটাই আসলে মূলত একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের হাতে পাওয়ায় যোগ্য মাসিক বেতন বলতে পারেন।
সূত্র: {মোট মাসিক বেতন+(ওভারটাইম ঘন্টা*ওভারটাইম রেট)+উপস্থিত ভাতা (যদি থাকে)}-(অগ্রিম কর্তন+অনুপস্থিত কর্তন)
নোট: এখানে একেক কারখানার উপস্থিত ভাতা একেক রকমের। তবে ২০২৩ এর গেজেট অনুযায়ী সর্বনিম্ন উপস্থিত ভাতা হেলপার ৬২৬ এবং অপারেটর ৭২৫ টাকা। আর অগ্রিম কর্তন হচ্ছে, আগে কোনো কিছু নিয়ে থাকলে যেমন আইডি কার্ডের জন্য কর্তন ইত্যাদি।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে আরো ভালো ভাবে বোঝাতে চাই।
উদাহরণ: করিমের মাসিক বেতন ১৫৯৯৪ টাকা। তার আগস্ট মাসের মোট ওভারটাইম হয়েছে ৬৬ ঘন্টা। ৩ দিন ছুটি এবং একদিন অনুপস্থিত ছিলো। তাহলে আগস্ট মাসে করিমের মোট প্রাপ্য মজুরী কতো?
তো খাতা কলম নিয়ে আমার সাথে মিলান। আমি হিসেব শুরু করতেছি...
মোট মাসিক বেতন=১৫৯৯৪ টাকা
বেসিক/মূল বেতন={১৫৯৯৪-(১২৫০+৪৫০+৭৫০)}/১.৫=৯০২৯.৩৩ টাকা
ওভারটাইম রেট=৯০২৯.৩৩/১০৪=৮৬.৬৫ টাকা।
অনুপস্থিত কর্তন=৯০২৯.৩৩/৩০=৩০০.৯৭ টাকা।
তাহলে মোট প্রাপ্য মজুরী={১৫৯৯৪+(৮৬.৬৫*৬৬)-(৩০০.৯৭*১)}~=২১৪১১ টাকা।
নোট: অনুপস্থিত বা ছুটির ক্ষেত্রে উপস্থিত ভাতা থাকেনা। তাই হিসেবে দেওয়া হয়নাই।
তাহলে করিমের আগস্ট মাসের মোট প্রাপ্য মজুরী হলো ২১৪১১ টাকা।
আশাকরি এখন থেকে নিজের এবং অন্য যেকোনো গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক মোট মজুরী, ওভারটাইম রেট বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট সহ সকল ভাতা সঠিক ভাবে হিসেব করতে পারবেন।
এর পরেও যদি, এগুলি ঝামেলা মনে হয় অথবা হাতে সময় কম থাকে তাহলে আমাদের তৈরি গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটার ব্যবহার করে আপনে খুব সহজেই গার্মেন্টস এর মাসিক মোট মুজুরী হিসেবে করতে পারবেন।
এখন যদি কোথাও বুঝতে অসুবিধে হয়, তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমি যথা সাধ্য সাহায্যের চেষ্টা করবো।ি।
মন্তব্য (0 টি)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!