বাংলাদেশ গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটর

২০২৩ সালের গেজেট অনুযায়ী গার্মেন্টস শ্রমিকদের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতাসহ মোট বেতন হিসাব করুন।

নিচে আপনার মাসিক মোট বেতন ও OT ঘণ্টা দিন — ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতন, OT রেট, অনুপস্থিতির কর্তন ও চূড়ান্ত বেতন বের করবে।
বিজ্ঞাপন

গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটর কী?

গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে মাসিক বেতন, ওভারটাইম, অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য হিসাব একসঙ্গে মিলিয়ে আনুমানিক হাতে পাওয়ার বেতন বের করা যায়।

আপনার বেতনের তথ্যগুলো ঘরে বসে যাচাই করার জন্য এটি একটি দ্রুত হিসাবের টুল। ফলাফল আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেখানো হবে।

গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটর দিয়ে কী কী হিসাব করা যাবে?

  • মাসিক বেতন
  • ওভারটাইমের টাকা
  • অনুপস্থিতির প্রভাব
  • অ্যাটেনডেন্স বা অন্যান্য যোগ
  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের পর বেতন
  • চূড়ান্ত আনুমানিক বেতন

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

  1. আপনার মাসিক বেতন বা প্রয়োজনীয় বেতন তথ্য দিন।
  2. প্রযোজ্য Basic Salary ও অন্যান্য তথ্য লিখুন।
  3. মাসে কত ঘণ্টা ওভারটাইম করেছেন তা দিন।
  4. অনুপস্থিতির দিন থাকলে সেটি উল্লেখ করুন।
  5. প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতা বা যোগের তথ্য দিন।
  6. হিসাব করুন বাটনে চাপ দিন।

সব তথ্য দেওয়ার পর ক্যালকুলেটর আপনার দেওয়া ইনপুট অনুযায়ী হিসাবের ফলাফল দেখাবে।

আপনি যদি গার্মেন্টস এর বেতন হিসেবের সকল নিয়ম হাতে কলমে নিজেই শিখতে চান তাহলে নিচের দেওয়া পোস্টটি দেখতে পারেন ২০২৩ সালের গেজেট অনুযায়ী গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন হিসেব করা শিখুন, পূর্ণাঙ্গ গাইড

হিসাবের আগে যা মনে রাখবেন

প্রতিষ্ঠানভেদে বেতন কাঠামো, ভাতা, ছুটি, ওভারটাইম এবং অন্যান্য পেমেন্টের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই ক্যালকুলেটরের ফলাফলকে আপনার বেতন স্লিপ বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

কোনো নির্দিষ্ট মাসের বেতন যাচাই করার সময় সেই মাসের Basic Salary, উপস্থিতি, OT এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গার্মেন্টস বেতন ক্যালকুলেটর এর উদাহরণ

ধরুন একজন কর্মীর মাসিক বেতন নির্দিষ্ট এবং তিনি ওই মাসে কিছু অতিরিক্ত সময় কাজ করেছেন। একই সঙ্গে কয়েক দিন অনুপস্থিত ছিলেন। ক্যালকুলেটরে সংশ্লিষ্ট তথ্য দিলে অতিরিক্ত কাজের টাকা এবং অনুপস্থিতির প্রভাবসহ আনুমানিক মোট বেতন দেখা যাবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ওভারটাইম রেট সাধারণত মূল বেতনকে ২০৮ দিয়ে ভাগ করে ২ দিয়ে গুণ করে বের করা হয়। এখানে ২০৮ মানে মাসে ২৬ দিন × ৮ ঘণ্টা। উদাহরণস্বরূপ, মূল বেতন ৭,৪০০ টাকা হলে OT রেট = (৭,৪০০ ÷ ২০৮) × ২ = ৭১.১৫ টাকা প্রতি ঘণ্টা। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ১৬৮ দিয়ে ভাগ করে (৩০ দিন × ৮ ঘণ্টা ধরলে ২৪০ হয়, আবার ২১ দিন × ৮ ঘণ্টা ধরলে ১৬৮ হয়)। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করে নিন।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, অনুপস্থিতির কর্তন হিসাব করতে মূল বেতনকে ৩০ দিয়ে ভাগ করে একদিনের কর্তন বের করতে হয় [citation:1]। যেমন মূল বেতন ৭,৪০০ টাকা হলে একদিনের কর্তন = ৭,৪০০ ÷ ৩০ = ২৪৬.৬৭ টাকা। দুই দিন অনুপস্থিত থাকলে কর্তন হবে ২৪৬.৬৭ × ২ = ৪৯৩.৩৩ টাকা। মনে রাখবেন, কর্তন সবসময় মূল বেতনের ভিত্তিতে — মোট বেতনের নয়।
আপনার কাছে যদি শুধু মোট মাসিক বেতন থাকে, তাহলে সূত্র হলো — মূল বেতন = (মোট বেতন − চিকিৎসা ভাতা − খাদ্য ভাতা − যাতায়াত ভাতা) ÷ ১.৫। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ১২৫০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা সাধারণত নির্ধারিত থাকে। যেমন মোট বেতন ১৩,৫৫০ টাকা হলে মূল বেতন = (১৩,৫৫০ − ৭৫০ − ১২৫০ − ৪৫০) ÷ ১.৫ = ৭,৪০০ টাকা।
সাধারণত যদি আপনি মাসে একদিনও অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সেই মাসে উপস্থিতি ভাতা পাবেন না। এই ক্যালকুলেটরটিও সেই নিয়ম মেনে চলে — অনুপস্থিতির দিন ১ বা তার বেশি দিলে উপস্থিতি ভাতার ইনপুট বক্স লুকিয়ে যায় এবং হিসাবে সেটি ০ ধরা হয়। তবে কিছু কোম্পানি মাসে ১-২ দিন ছাড় দেয় — সেক্ষেত্রে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী হাতে হিসাব করতে হবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, এক বছর পূর্ণ করার পর শ্রমিকরা বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার যোগ্য হন [citation:6]। এই ইনক্রিমেন্ট সাধারণত মূল বেতনের একটি অংশ (৫% থেকে ১০%)। আপনি যদি ৯% ইনক্রিমেন্ট হার দেন এবং আপনার মূল বেতন ৭,৪০০ টাকা, বাড়িভাড়া ৩,৭০০ টাকা হয়, তাহলে ইনক্রিমেন্ট = (৭,৪০০ + ৩,৭০০) × ৯% = ৯৯৯ টাকা। নতুন মূল বেতন হবে ৮,৩৯৯ টাকা এবং নতুন বাড়িভাড়া হবে ৪,১৯৯.৫০ টাকা। অন্যান্য ভাতা (চিকিৎসা, খাদ্য, যাতায়াত) অপরিবর্তিত থাকবে।