বয়সসীমা যাচাই ক্যালকুলেটর

চাকরি, ভর্তি বা পরীক্ষার নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখে আপনার বয়সসীমা যোগ্য কিনা যাচাই করুন।

জন্মতারিখ, কাট-অফ তারিখ এবং নির্ধারিত বয়সসীমা দিন — আপনি যোগ্য কিনা мгновенно জানুন।
কাট-অফ তারিখ ও বয়সসীমা দিন — আপনার যোগ্য জন্মতারিখের সীমা জানুন। কোন তারিখের মধ্যে জন্ম হলে আবেদন করা যাবে।
বাংলাদেশে সাধারণ কিছু ক্ষেত্রে বয়সসীমার তথ্য। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে — সবসময় অফিসিয়াল নোটিশ দেখুন।
সরকারি চাকরি (সাধারণ) ১৮ - ৩০

বাংলাদেশ সরকারি চাকরিতে সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা বিশেষ ক্ষেত্রে ৩২ বছর পর্যন্ত ছাড়।

ব্যাংক চাকরি ২১ - ৩০

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে সাধারণত ২১ থেকে ৩০ বছর। তবে কিছু প্রাইভেট ব্যাংকে নিয়ম ভিন্ন।

বিসিএস পরীক্ষা ২১ - ৩০

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাধারণত ২১ থেকে ৩০ বছর। নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখে বয়স গণনা করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ১৮ - ৩০

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি (স্নাতক) বয়সসীমা নেই

বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ভর্তিতে সাধারণত কোনো বয়সসীমা নেই।

এনজিও চাকরি ২২ - ৩৫

বেশিরভাগ এনজিওতে ২২ থেকে ৩৫ বছর। জ্যেষ্ঠ পদে আরও বেশি ছাড় থাকে।

সেনা / পুলিশ (নিয়োগ) ১৭ - ২৩

সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ইত্যাদিতে নিয়োগের জন্য সাধারণত ১৭-২৩ বছর। পদভেদে ভিন্ন।

বিবাহ নিবন্ধন (বাংলাদেশ) ছেলে ২১, মেয়ে ১৮

মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী ছেলের সর্বনিম্ন বয়স ২১ এবং মেয়ের ১৮ বছর।

NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) ১০+ বছর

NID-র জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১০ বছর। ভোটার হওয়ার জন্য ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স (পেশাদার) ২০+ বছর

পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ২০ বছর, নন-প্রফেশনাল ১৮ বছর।

⚠️ উপরের তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য। নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া শর্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞাপন

বয়সসীমা যাচাই ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

চাকরিতে আবেদন, ভর্তি পরীক্ষা, বৃত্তি কিংবা ভিসার আবেদনের মতো অনেক কাজেই নির্দিষ্ট একটি তারিখ ধরে বয়স যাচাই করা হয়। শুধু আপনার বর্তমান বয়স কত, সেটা জানলেই সব সময় কাজ হয় না। বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া কাট-অফ তারিখে আপনার বয়স কত ছিল বা হবে, সেটিই অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বছর, মাস ও দিনের হিসাব একসঙ্গে করতে গিয়ে হাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এই ক্যালকুলেটরটি সেই হিসাবটি দ্রুত করে দেয় এবং নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আপনি পড়ছেন কি না, তা বুঝতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে যোগ্য হতে আর কতদিন বাকি, সেটিও জানা যায়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালকুলেটরের তিনটি ট্যাবের যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন।

১. বয়সসীমা যাচাই: প্রথমে আপনার জন্মতারিখ লিখুন। এরপর যে চাকরি, ভর্তি বা অন্য কোনো আবেদনের জন্য বয়স যাচাই করছেন, সেই কাট-অফ তারিখ দিন। সবশেষে নির্ধারিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বয়সসীমা লিখুন। হিসাবের পর দেখা যাবে ওই তারিখে আপনার বয়স কত এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে আপনি পড়ছেন কি না। যোগ্য না হলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আর কতদিন পর সীমার মধ্যে আসবেন, সেটিও জানা যাবে।

২. যোগ্য জন্মতারিখ: কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমার জন্য কোন জন্মতারিখের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, সেটি জানতে এই ট্যাবটি ব্যবহার করুন। কাট-অফ তারিখ এবং বয়সসীমা দিলেই সম্ভাব্য যোগ্য জন্মতারিখের পরিসর দেখাবে। ফলে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বয়সের শর্তটি দ্রুত বোঝা যায়।

৩. সাধারণ বয়সসীমা: বাংলাদেশে চাকরি, ব্যাংক, বিসিএস, এনজিও, সামরিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিবাহ নিবন্ধন, NID কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচলিত বয়সসংক্রান্ত তথ্য এখানে দেখা যাবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, আপনার জন্মতারিখ ১৫ মার্চ ১৯৯৮। একটি সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। ওই তারিখে আপনার বয়স হবে ২৭ বছর, ৯ মাস, ১৭ দিন। তাই দেওয়া বয়সসীমার মধ্যে আপনি পড়ছেন।

আরেকটি উদাহরণ ধরা যাক। কারও জন্মতারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০০৮ এবং বয়স যাচাইয়ের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬। যদি সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ওই তারিখে তার বয়স হবে ১৭ বছর, ৭ দিন। অর্থাৎ তিনি তখনও ১৮ বছর পূর্ণ করেননি। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮ বছর পূর্ণ হবে।

কিছু কাজের টিপস

  • সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়স সাধারণত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট তারিখ ধরে হিসাব করা হয়। তাই শুধু নিজের বর্তমান বয়স দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির কাট-অফ তারিখটি ভালোভাবে দেখে নিন।
  • NID, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিতে থাকা জন্মতারিখের তথ্য মিলিয়ে রাখা জরুরি। কোনো নথিতে তথ্যের পার্থক্য থাকলে কোন তথ্য গ্রহণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে।
  • সামরিক বাহিনী, পুলিশ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে বয়সের শর্ত আলাদা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পাশাপাশি মাস ও দিনের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুসরণ করুন।
  • জন্মদিনেই একটি পূর্ণ বছর সম্পন্ন হয়। যেমন কারও জন্ম ১৫ মার্চ ২০০০ হলে ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার বয়স ২৬ বছর পূর্ণ হবে।
  • বিশেষ কোনো শ্রেণি বা কোটার প্রার্থীদের জন্য বয়সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ থাকতে পারে। এই সুবিধা কতটা এবং কারা পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বা ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া থাকে।
  • বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশে বিবাহের ন্যূনতম আইনগত বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর।
  • কোনো বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশের তারিখ, আবেদনের শেষ তারিখ বা পরীক্ষার তারিখ—এভাবে একাধিক তারিখ থাকলে কোন তারিখ ধরে বয়স হিসাব হবে, সেটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত থেকেই নিশ্চিত করুন। অনুমান করে হিসাব করা ঠিক নয়।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির আবেদনে বয়স একটি নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখে হিসাব হয় — যেমন "১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে"। কাট-অফ তারিখের দিনে আপনার বয়স "বছর-মাস-দিন" এ গণনা করা হয়, এবং সেই বছর সংখ্যা দিয়ে যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। যেমন জন্ম ১৫ জুন ১৯৯৫ এবং কাট-অফ ১ জানুয়ারি ২০২৬ — বয়স হবে ৩০ বছর ৬ মাস ১৭ দিন, অর্থাৎ ৩০ বছরের সীমা অতিক্রম — অযোগ্য। কিন্তু জন্ম যদি ১০ জানুয়ারি ১৯৯৬ হয় — বয়স হবে ২৯ বছর ১১ মাস ২২ দিন — যোগ্য। এই ক্যালকুলেটরের "বয়সসীমা যাচাই" ট্যাব ঠিক এই হিসাব мгновенно দেখায়।
বাংলাদেশে সরকারি সব আবেদনে NID বা জন্মনিবন্ধন সনদে যে জন্মতারিখ আছে, সেটিই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য। স্কুল সার্টিফিকেট বা অন্যান্য কাগজপত্রে ভিন্ন তারিখ থাকলে সমস্যা তৈরি হয় — সেক্ষেত্রে NID-র তারিখই চূড়ান্ত। যদি NID-র তারিখ ভুল থাকে, সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে আবেদন করতে হয় — তবে সময় লাগে এবং সব ক্ষেত্রে সংশোধন হয় না। তাই ছোটবেলা থেকেই NID ও জন্মনিবন্ধনের তারিখ এক রাখা জরুরি।
হ্যাঁ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি চাকরি, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, এবং নির্দিষ্ট ভর্তি পরীক্ষায় বয়স মাস ও দিন পর্যন্ত গণনা করা হয়। উদাহরণ — "১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সর্বোচ্চ ৩০ বছর" বলা হলে যিনি ১ জানুয়ারি ১৯৯৬-এ জন্মেছেন তিনি যোগ্য, কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৫-এ জন্মালে ৩০ বছর ১ দিন হয়ে যাওয়ায় অযোগ্য। এই এক দিনের পার্থক্যেই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদনের আগে এই ক্যালকুলেটর দিয়ে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে কয়েকটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য বয়সসীমায় ছাড় রয়েছে — (১) মুক্তিযোদ্ধা কোটা: ২-৫ বছর পর্যন্ত ছাড়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (২) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: কিছু ক্ষেত্রে ২-৩ বছর ছাড়। (৩) প্রতিবন্ধী প্রার্থী: বিশেষ কিছু চাকরিতে বিশেষ ছাড়। (৪) বিভিন্ন বিভাগে ভিন্ন নিয়ম: যেমন সেনাবাহিনীর কিছু পদের জন্য আলাদা বয়সসীমা। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে — সেটিই চূড়ান্ত। সাধারণ হিসাবে ছাড় যুক্ত করে নিজে হিসাব করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই আবেদনের আগে প্রতিষ্ঠানের সাথে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
জন্মতারিখ থেকে শুরু হয়। একটি নির্দিষ্ট তারিখে বয়স বলতে — সেই তারিখ পর্যন্ত কত বছর, মাস, দিন অতিবাহিত হয়েছে সেটি বোঝায়। birthdays হিসাবের নিয়ম — জন্মতারিখের ঠিক এক বছর পর সেদিন ওই বছর পূর্ণ হয়। যেমন ১৫ মার্চ ২০০০-এ জন্মালে ১৫ মার্চ ২০২০-এ ২০ বছর পূর্ণ, ১৪ মার্চ ২০২০-এ বয়স ১৯ বছর ১১ মাস ২৮/২৯ দিন। কোনো নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখে বয়স হিসাব করতে হলে সেই তারিখে শেষ জন্মদিন কত বছর পূর্ণ হয়েছে সেটি গণনা করা হয়, এবং সেই সংখ্যা দিয়েই যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। লিপ ইয়ারের (leap year) হিসাবেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয় না — শুধু ২৯ ফেব্রুয়ারিতে জন্মালে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।