সিজিপিএ ক্যালকুলেটর

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্ট দিয়ে CGPA, টার্গেট CGPA এবং প্রয়োজনীয় GPA সহজেই হিসাব করুন।

প্রতিটি কোর্সের নাম (ঐচ্ছিক), ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্ট আলাদা সারিতে দিন। ক্যালকুলেটরটি ওজনযুক্ত গড় নিয়মে CGPA বের করবে।
কোর্স ক্রেডিট গ্রেড পয়েন্ট
আপনার বর্তমান CGPA, সম্পন্ন ক্রেডিট, বাকি ক্রেডিট এবং টার্গেট CGPA লিখুন — জানতে পারবেন বাকি সেমিস্টারগুলোতে ন্যূনতম কত GPA লাগবে।
বিজ্ঞাপন

সিজিপিএ ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় নিজের CGPA কত হচ্ছে, সেটা জানা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট এক না হওয়ায় হাতে হিসাব করতে গেলে সহজেই ভুল হয়ে যেতে পারে। ৩ ক্রেডিটের একটি কোর্স আর ১ ক্রেডিটের একটি কোর্সের ফলাফল CGPA-তে একইভাবে প্রভাব ফেলে না।

এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্ট বসিয়ে দ্রুত CGPA বের করতে পারবেন। পাশাপাশি আপনার বর্তমান ফলাফল ও বাকি ক্রেডিটের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট টার্গেট CGPA পেতে কত GPA দরকার, সেটিও হিসাব করা যাবে।

সিজিপিএ ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

ক্যালকুলেটরে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী দুটি হিসাবের পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।

১. CGPA হিসাব: রেজাল্টশিট দেখে প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট এবং গ্রেড পয়েন্ট লিখুন। কোর্সের নাম চাইলে দিতে পারেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে আরও কোর্স যোগ করে সব তথ্য দেওয়া শেষে “CGPA হিসাব করুন” বাটনে চাপুন। এরপর মোট ক্রেডিট, মোট গ্রেড পয়েন্ট এবং CGPA দেখতে পারবেন।

২. টার্গেট CGPA: এখানে বর্তমান CGPA, ইতিমধ্যে সম্পন্ন ক্রেডিট, বাকি ক্রেডিট এবং কাঙ্ক্ষিত CGPA লিখতে হবে। হিসাব করার পর বাকি ক্রেডিটে গড়ে কত GPA প্রয়োজন তা দেখা যাবে। প্রয়োজনীয় GPA যদি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্টের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ওই টার্গেট অর্জন করা সম্ভব নয়।

সিজিপিএ ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, একটি সেমিস্টারে আপনার চারটি কোর্স আছে। ডেটা স্ট্রাকচার ৩ ক্রেডিটে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৭৫, ডেটাবেজ ৪ ক্রেডিটে ৪.০০, ডিজক্রিট ম্যাথ ৩ ক্রেডিটে ৩.৫০ এবং ইংরেজি ২ ক্রেডিটে ৩.০০।

মোট ক্রেডিট = ৩ + ৪ + ৩ + ২ = ১২।

মোট গ্রেড পয়েন্ট = (৩ × ৩.৭৫) + (৪ × ৪.০০) + (৩ × ৩.৫০) + (২ × ৩.০০) = ৪৩.৭৫।

তাহলে CGPA = ৪৩.৭৫ ÷ ১২ = প্রায় ৩.৬৫।

আরেকটি উদাহরণ ধরা যাক, আপনার বর্তমান CGPA ৩.৪০ এবং এখন পর্যন্ত ৯০ ক্রেডিট সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৩০ ক্রেডিট বাকি এবং আপনি চূড়ান্ত CGPA ৩.৬০ করতে চান। ৪.০০ স্কেলে হিসাব করলে প্রয়োজনীয় GPA হবে:

(৩.৬০ × ১২০ − ৩.৪০ × ৯০) ÷ ৩০ = ৪.২০

অর্থাৎ বাকি ৩০ ক্রেডিটে গড়ে ৪.২০ GPA প্রয়োজন হবে। যদি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ GPA ৪.০০ হয়, তাহলে এই টার্গেট বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব নয়।

হিসাব করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখুন

  • CGPA বের করার সময় শুধু গ্রেড পয়েন্টগুলোর গড় করবেন না। প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট × গ্রেড পয়েন্ট করে মোট যোগফলকে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করতে হবে।
  • বেশি ক্রেডিটের কোর্স CGPA-তে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই ৩ বা ৪ ক্রেডিটের কোর্সের ফলাফল সাধারণত কম ক্রেডিটের কোর্সের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • শুরু থেকেই CGPA ভালো রাখার চেষ্টা করলে পরের দিকে ফলাফল ধরে রাখা সহজ হয়। শুরুতে কমে গেলে পরে সেটি বাড়াতে তুলনামূলক বেশি GPA প্রয়োজন হতে পারে।
  • টার্গেট CGPA হিসাব করার পর প্রয়োজনীয় GPA আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্টের চেয়ে বেশি হলে বুঝতে হবে ওই টার্গেট বর্তমান ক্রেডিট কাঠামোয় সম্ভব নয়।
  • চাকরি বা উচ্চশিক্ষার আবেদনে CGPA রূপান্তরের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করুন। এক স্কেল থেকে অন্য স্কেলে সরল অনুপাতে রূপান্তর সব ক্ষেত্রে সঠিক নাও হতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন

GPA সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সেমিস্টার বা নির্দিষ্ট সময়ের ফলাফল বোঝায়। যেমন, একটি সেমিস্টারে আপনার GPA ৩.৭০ হতে পারে। আর CGPA হলো এখন পর্যন্ত সম্পন্ন করা সব কোর্স ও সেমিস্টারের সামগ্রিক ফলাফল। তাই পুরো ডিগ্রির ফলাফল দেখতে সাধারণত CGPA-ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট এবং গ্রেড পয়েন্ট ধরে হিসাব করতে হয়। প্রথমে প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট × গ্রেড পয়েন্ট করতে হবে। এরপর সবগুলোর ফল যোগ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলেই CGPA পাওয়া যাবে।
এটি বের করার জন্য আপনার বর্তমান CGPA, ইতিমধ্যে সম্পন্ন ক্রেডিট, বাকি ক্রেডিট এবং কাঙ্ক্ষিত CGPA জানা দরকার। এগুলো দিয়ে হিসাব করলে বাকি কোর্সগুলোতে গড়ে কত GPA প্রয়োজন হবে তা বের করা যায়।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৪.০০ স্কেল বেশ প্রচলিত। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং পদ্ধতি এক নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে অন্য স্কেলও দেখা যেতে পারে। তাই CGPA তুলনা করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং স্কেল দেখে নেওয়া জরুরি।
কোনো কোর্সে F বা শূন্য গ্রেড পয়েন্ট পেলে সেই কোর্সের ফলাফল CGPA-তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কোর্সটির ক্রেডিট বেশি হলে প্রভাবও বেশি হতে পারে।