দুই তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর

দুই তারিখের মধ্যে কত বছর, মাস ও দিন পার্থক্য — সাথে মোট দিন, সপ্তাহ, ঘণ্টা এবং কর্মদিবসের হিসাব বের করুন।

দুইটি তারিখ দিন — মাঝের বছর, মাস ও দিন এবং মোট দিন-সপ্তাহ-ঘণ্টার হিসাব একসাথে দেখাবে।
একটি তারিখ থেকে নির্দিষ্ট দিন যোগ বা বিয়োগ করে নতুন তারিখ বের করুন।
দুই তারিখের মধ্যে কতটি কর্মদিবস (সপ্তাহের ৫ দিন) এবং কতটি সাপ্তাহিক ছুটি — আলাদা করে হিসাব।
ডিফল্ট নিয়ম: সোমবার থেকে শুক্রবার কর্মদিবস, শনিবার-রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে শুক্র-শনি ছুটি — সেটি চাইলে নিচে নির্বাচন করুন।
বিজ্ঞাপন

দুই তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

দুটি তারিখের মধ্যে ঠিক কতটা সময়ের পার্থক্য রয়েছে, সেটা অনেক সময় আমাদের হিসাব করতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কতদিন হয়েছে, কোনো প্রকল্প শেষ হতে আর কত সময় বাকি, ঋণের মেয়াদ কতদিন, কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তারিখ আর কত দূরে—এসব ক্ষেত্রে তারিখের ব্যবধান জানা দরকার হতে পারে। কাগজে-কলমে হিসাব করা সম্ভব হলেও মাসের দিনসংখ্যা আলাদা হওয়া এবং লিপ ইয়ারের কারণে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে। এই ক্যালকুলেটরে তাই তিন ধরনের হিসাবের সুবিধা রাখা হয়েছে—দুই তারিখের ব্যবধান, কোনো তারিখের সঙ্গে সময় যোগ বা বিয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময়ের কর্মদিবস গণনা।

দুই তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

আপনার যে ধরনের হিসাব দরকার, সেটি অনুযায়ী তিনটি ট্যাবের মধ্যে থেকে একটি বেছে নিন। প্রতিটি অপশনের কাজ আলাদা।

১. তারিখের ব্যবধান: শুরু ও শেষের তারিখ লিখে হিসাব করুন। ফলাফলে বছর, মাস ও দিনের পার্থক্যের পাশাপাশি মোট দিন, সপ্তাহ, মাস, ঘণ্টা এবং মিনিটও দেখা যাবে। শুরু ও শেষ তারিখ সপ্তাহের কোন দিনে পড়েছে, সেটিও জানা যাবে। ফলে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান বোঝা আরও সহজ হয়।

২. তারিখ থেকে যোগ/বিয়োগ: একটি নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় যোগ বা বিয়োগ করে নতুন তারিখ বের করতে এই ট্যাবটি ব্যবহার করুন। যেমন আজ থেকে ৯০ দিন পরে কোন তারিখ হবে, অথবা আজ থেকে ৬ মাস আগে তারিখটি কী ছিল—এ ধরনের হিসাব কয়েক মুহূর্তেই করা যায়।

৩. কর্মদিবস হিসাব: দুটি তারিখের মধ্যে মোট কতটি কর্মদিবস রয়েছে এবং কতদিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে, তা আলাদাভাবে দেখতে পারবেন। বাংলাদেশের সাধারণ কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য ছুটির নিয়মও বেছে নেওয়া যায়।

দুই তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, আপনি ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং হিসাবের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তারিখের ব্যবধান বের করলে সময়কাল দাঁড়াবে ৬ বছর, ৮ মাস, ১৮ দিন। এই সময়ের মোট পরিমাণ ২,৪৫৩ দিন বা ৩৫০ সপ্তাহ। ঘণ্টার হিসাবে সেটি ৫৮,৮৭২ ঘণ্টা। চাকরির অভিজ্ঞতার সময়কাল যাচাই বা কোনো নথিতে তথ্য দেওয়ার সময় এমন হিসাব কাজে লাগতে পারে।

আরেকটি উদাহরণ ধরা যাক। একটি ঋণের শুরু ১ জুন ২০২৬ এবং মেয়াদ শেষ হবে ১ জুন ২০৩১। দুটি তারিখের ব্যবধান হবে ৫ বছর, অর্থাৎ মোট ১,৮২৬ দিন বা ২৬০ সপ্তাহ। ঋণটি যদি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়, তাহলে পাঁচ বছরে মোট ৬০টি মাসিক কিস্তি হতে পারে। তবে প্রকৃত কিস্তির সংখ্যা ও পরিশোধের নিয়ম ঋণদাতার শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

কিছু কাজের টিপস

  • দুই তারিখের ব্যবধান বের করার সময় সাধারণত শুরুর তারিখ থেকে শেষ তারিখ পর্যন্ত পার হওয়া দিন গণনা করা হয়। যেমন ১ জানুয়ারি থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যবধান ১ দিন, ২ দিন নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ফর্ম বা প্রতিষ্ঠানে যদি শুরু ও শেষ—দুই দিনই গণনার নির্দেশ থাকে, তাহলে সেই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
  • চাকরির অভিজ্ঞতা হিসাব করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও যোগদানের দিন থেকেই সময় ধরা হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখ অনুযায়ী হিসাব করা হয়।
  • ঋণ বা ইনস্যুরেন্সের ক্ষেত্রে শুধু মোট দিন নয়, মাসের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিস্তি কতটি হবে বা মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চুক্তির শর্তও দেখে নিন।
  • গর্ভাবস্থার সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ সাধারণভাবে শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে প্রায় ৪০ সপ্তাহ বা ২৮০ দিন ধরে অনুমান করা হয়। ক্যালকুলেটরের তারিখে যোগ করার সুবিধা দিয়ে একটি আনুমানিক তারিখ বের করা যায়। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
  • পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য হাতে কতদিন আছে জানতে চাইলে সাধারণত মোট দিন হিসাব করাই সুবিধাজনক। অন্যদিকে অফিস, স্কুল বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের সময়সূচি তৈরিতে কর্মদিবসের হিসাব বেশি প্রাসঙ্গিক।
  • ভিসা, পাসপোর্ট বা অন্য কোনো নথির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নির্দিষ্ট থাকলে সেটি ক্যালেন্ডারে আলাদা করে লিখে রাখুন। তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর দিয়ে কতদিন বাকি আছে, সেটিও আগে থেকে দেখে নিতে পারবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

পদ্ধতি তিনটি ধাপে — (১) বছরের পার্থক্য বের করুন। (২) মাসের পার্থক্য বের করুন। (৩) দিনের পার্থক্য বের করুন। যদি দিন ঋণাত্মক আসে, আগের মাস থেকে ধার নিতে হয় — মাস থেকে ১ বাদ, এবং আগের মাসের দিনসংখ্যা যোগ। যদি মাস ঋণাত্মক আসে, বছর থেকে ১ বাদ দিয়ে মাসে ১২ যোগ করতে হয়। উদাহরণ — ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৫: বছর ৫, মাস ২ (মার্চ > জানুয়ারি), দিন ৫। অর্থাৎ ব্যবধান ৫ বছর ২ মাস ৫ দিন। এই ক্যালকুলেটরটি ঠিক এই পদ্ধতিতেই হিসাব করে এবং মোট দিন, সপ্তাহ, মাস, ঘণ্টা — সব দেখায়।
কারণ মাসের দিনসংখ্যা সমান নয় — জানুয়ারি ৩১ দিন, ফেব্রুয়ারি ২৮/২৯, এপ্রিল ৩০ — এই ভিন্নতার কারণে ৯০ দিন মানে সব সময় ৩ মাস নয়। উদাহরণ — ১ জানুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল = ৯০ দিন (জানুয়ারি ৩১ + ফেব্রুয়ারি ২৮ + মার্চ ৩১) = ৩ মাস। কিন্তু ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মে = ৮৯ দিন = ৩ মাস। আবার ১ মার্চ থেকে ১ জুন = ৯২ দিন = ৩ মাস। তাই সঠিক মাস জানতে সরাসরি মাস-ভিত্তিক হিসাব ব্যবহার করা ভালো — এই ক্যালকুলেটরের "বছর-মাস-দিন" হিসাবটিই সবচেয়ে নির্ভুল।
সাধারণ নিয়ম — সোম থেকে শুক্র পর্যন্ত কর্মদিবস, শনি-রবি সাপ্তাহিক ছুটি। বাংলাদেশে সাধারণত শুক্র-শনি ছুটি। হিসাব পদ্ধতি — প্রথমে মোট দিন ÷ ৭ করে পূর্ণ সপ্তাহের সংখ্যা বের করা হয়, তারপর প্রতিটি সপ্তাহের ২ দিন ছুটি ধরে হিসাব করা হয়। তারপর বাকি দিনগুলো একে একে চেক করে দেখা হয় কোনটা ছুটির দিন। এই ক্যালকুলেটরে তিনটি ছুটির নিয়ম দেওয়া আছে — শনি-রবি (আন্তর্জাতিক), শুক্র-শনি (বাংলাদেশ), শুধু শুক্রবার। তবে সরকারি ছুটি (ঈদ, পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি) এই হিসাবে ধরা হয় না — সেগুলো আলাদা যোগ করতে হয়।
মাস যোগ করার সময় মূল তারিখটি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করা হয় — কিন্তু পরবর্তী মাসে সেই দিন না থাকলে সমস্যা হয়। উদাহরণ — ৩১ জানুয়ারি থেকে ১ মাস যোগ করলে ৩১ ফেব্রুয়ারি হয় না, কারণ ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১ নেই। সেক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন (২৮ বা ২৯) ধরা হয়। এই ক্যালকুলেটরটি ঠিক সেই নিয়মই মেনে চলে — ৩১ জানুয়ারি + ১ মাস = ২৮ ফেব্রুয়ারি (অথবা ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপ ইয়ারে)। এটি ইন্টারন্যাশনাল standard।
সাধারণ চিকিৎসা নিয়ম — শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে ২৮০ দিন (৪০ সপ্তাহ) যোগ করলে সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ হয়। এই ক্যালকুলেটরের "তারিখ থেকে যোগ/বিয়োগ" ট্যাবে — মূল তারিখে শেষ মাসিকের প্রথম দিন দিন, চিহ্ন "+" রাখুন, একক "দিন" নির্বাচন করে ২৮০ দিন লিখুন। ফলাফলে প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দেখাবে। অথবা চিকিৎসকরা অনেক সময় "৯ মাস ৭ দিন" হিসাব করেন — সেক্ষেত্রে ৯ মাস যোগ করে ৭ দিন বেশি ধরতে হয়। তবে এটি শুধু আনুমানিক — প্রকৃত প্রসবের তারিখ ±২ সপ্তাহ হতে পারে।