কিস্তির শেষ তারিখ ক্যালকুলেটর

ঋণ বা কিস্তির প্রথম তারিখ ও মেয়াদ থেকে শেষ কিস্তির তারিখ, প্রতি কিস্তির তারিখ এবং মোট পরিশোধের হিসাব এক ক্লিকে বের করুন।

প্রথম কিস্তির তারিখ, মোট কিস্তির সংখ্যা এবং কিস্তির ধরন দিন — শেষ তারিখ ও পূর্ণ সময়সূচি পাবেন।
ঋণের পরিমাণ, সুদের হার ও মেয়াদ দিয়ে মাসিক EMI এবং মোট পরিশোধের হিসাব।
বিজ্ঞাপন

কিস্তির শেষ তারিখ ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

ঋণ, গাড়ি বা মোটরসাইকেলের কিস্তি, মোবাইল ফোনের কিস্তি কিংবা ক্ষুদ্রঋণ—যে ধরনের কিস্তিই হোক, শুরুতেই শেষ কিস্তির তারিখ এবং প্রতিটি কিস্তি দেওয়ার সময়সূচি জানা বেশ কাজে দেয়। এতে সামনে কতদিন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটার একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হলে কোন সময়ে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে, সেটিও আগে থেকে পরিকল্পনা করা যায়। মাসের দিনসংখ্যা এক না হওয়ায় হাতে হিসাব করতে গিয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। বিশেষ করে ২৮, ৩০ বা ৩১ তারিখের কিস্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই ক্যালকুলেটরটি সেই হিসাবগুলো একসঙ্গে করে দেয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালকুলেটরের দুটি ট্যাবের যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন।

১. শেষ তারিখ ও সময়সূচি: প্রথম কিস্তির তারিখ, মোট কিস্তির সংখ্যা এবং কিস্তি কত সময় পরপর হবে তা নির্বাচন করুন—যেমন মাসিক, সাপ্তাহিক, দুই সপ্তাহ পরপর, তিন মাস পরপর বা বার্ষিক। চাইলে প্রতিটি কিস্তির পরিমাণও দিতে পারবেন। হিসাব করার পর শেষ কিস্তির তারিখ, মোট সময় এবং পুরো কিস্তির তালিকা দেখা যাবে।

২. ঋণের মোট হিসাব: নতুন ঋণের সম্ভাব্য হিসাব করতে এই ট্যাবটি ব্যবহার করা যায়। ঋণের পরিমাণ, বার্ষিক সুদের হার, মেয়াদ এবং প্রথম কিস্তির তারিখ দিলে আনুমানিক মাসিক কিস্তি, মোট পরিশোধযোগ্য টাকা, মোট সুদ এবং শেষ কিস্তির তারিখ একসঙ্গে পাওয়া যাবে। ঋণ নেওয়ার আগে মাসিক চাপ ও মোট খরচ সম্পর্কে ধারণা পেতে এটি কাজে লাগতে পারে।

বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, আপনি ৫,০০,০০০ টাকা ঋণ নিয়েছেন। বার্ষিক সুদের হার ৯ শতাংশ এবং মেয়াদ ৫ বছর। প্রথম কিস্তির তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। মাসিক কিস্তি পদ্ধতিতে এবং প্রচলিত সমান কিস্তির হিসাব অনুযায়ী মাসিক কিস্তি প্রায় ১০,৩৭৯.৪৯ টাকা হবে। ৬০টি কিস্তিতে মোট পরিশোধ প্রায় ৬,২২,৭৬৯ টাকা এবং মোট সুদ প্রায় ১,২২,৭৬৯ টাকা। প্রথম কিস্তি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হলে শেষ কিস্তি হবে ১ জানুয়ারি ২০৩১।

আরেকটি সহজ উদাহরণ ধরা যাক। ৫০,০০০ টাকার একটি মোবাইল ১২ মাসের কিস্তিতে কিনলেন এবং প্রতি মাসে ৪,৫০০ টাকা করে দিতে হবে। প্রথম কিস্তি ১৫ মার্চ ২০২৬ হলে ১২তম বা শেষ কিস্তির তারিখ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। সব কিস্তি সমান হলে মোট পরিশোধ হবে ৫৪,০০০ টাকা। ক্যালকুলেটরে পুরো সময়সূচি দেখলে কোন মাসে কবে কত টাকা দিতে হবে, সেটিও এক নজরে বোঝা যাবে।

কিছু কাজের টিপস

  • মাসের শেষ তারিখে কিস্তি নির্ধারিত থাকলে পরের মাসে একই তারিখ সব সময় পাওয়া যায় না। যেমন ৩১ জানুয়ারির পরের মাসে ৩১ ফেব্রুয়ারি নেই। তাই কিস্তির সময়সূচি তৈরির সময় ক্যালেন্ডারের প্রকৃত দিনসংখ্যা বিবেচনা করা জরুরি।
  • সব ঋণের কিস্তি মাসিক হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক বা দুই সপ্তাহ পরপর কিস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। আপনার ঋণচুক্তিতে যে পদ্ধতি উল্লেখ আছে, ক্যালকুলেটরে সেটিই নির্বাচন করুন।
  • ঋণ নেওয়ার আগে শুধু মাসিক কিস্তির পরিমাণ দেখলে পুরো খরচ বোঝা যায় না। মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে এবং তার মধ্যে সুদের পরিমাণ কত, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত।
  • আগাম ঋণ পরিশোধ করলে অনেক ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ বা মোট সুদের পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে আগাম পরিশোধের জন্য আলাদা শর্ত বা ফি থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে ঋণদাতার নিয়ম দেখে নিন।
  • ঋণের সঙ্গে প্রক্রিয়াকরণ ফি, বীমা, ভ্যাট বা অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে। ক্যালকুলেটরের সুদের হিসাবের বাইরে এসব খরচ থাকলে প্রকৃত পরিশোধযোগ্য টাকা আলাদা হতে পারে।
  • কিস্তির পুরো সময়সূচি আগে থেকে দেখে রাখলে প্রতি মাসে কত টাকা দিতে হবে, তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হলে নির্ধারিত তারিখের আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।
  • কয়েকটি কিস্তি পরিশোধ করার পরও যদি জানতে চান আর কতগুলো কিস্তি বাকি, তাহলে অবশিষ্ট কিস্তির সংখ্যা ও শেষ তারিখ আবার হিসাব করে নিতে পারেন। এতে ঋণ শেষ হতে আর কত সময় লাগবে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকবে।

সাধারণ প্রশ্ন

প্রথম কিস্তির তারিখ থেকে কিস্তির সংখ্যা অনুযায়ী যোগ করে শেষ কিস্তির তারিখ বের করা হয়। উদাহরণ — প্রথম কিস্তি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং মোট ১২টি মাসিক কিস্তি হলে, শেষ কিস্তি হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ (প্রথম থেকে ১১ মাস যোগ করে)। সাধারণ সূত্র — শেষ তারিখ = প্রথম তারিখ + (কিস্তির সংখ্যা − ১) × কিস্তির সময়কাল। সাপ্তাহিক কিস্তি হলে সপ্তাহ সংখ্যা × ৭ দিন, দ্বি-সাপ্তাহিক হলে ১৪ দিন যোগ করতে হয়। এই ক্যালকুলেটরটি প্রতিটি তারিখ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে, যাতে মাসের শেষ দিনে (৩১, ৩০, ২৮) সমস্যা না হয়।
EMI সূত্র — EMI = P × i × (1+i)^n ÷ [(1+i)^n − 1], যেখানে P = ঋণের পরিমাণ, i = মাসিক সুদের হার (বার্ষিক ÷ ১২ ÷ ১০০), n = মোট কিস্তির সংখ্যা (বছর × ১২)। উদাহরণ — ৫,০০,০০০ টাকা ঋণ, ৯% বার্ষিক সুদ, ৫ বছর মেয়াদ। i = 9/12/100 = 0.0075, n = 60। EMI = 500000 × 0.0075 × 1.0075^60 ÷ (1.0075^60 − 1) ≈ ৳ ১০,৩৭৯.৪৯। মোট পরিশোধ = EMI × 60 = ৳ ৬,২২,৭৬৯ এবং মোট সুদ = ৳ ১,২২,৭৬৯।
মাসের দিনসংখ্যা সমান নয় — জানুয়ারি ৩১, ফেব্রুয়ারি ২৮/২৯, এপ্রিল ৩০, জুন ৩০ ইত্যাদি। যদি প্রথম কিস্তির তারিখ ৩১ জানুয়ারি হয়, তবে মাসিক কিস্তিতে পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে ৩১ নেই — সেক্ষেত্রে দুইটি সমাধান হতে পারে। অনেক ব্যাংক ২৮ ফেব্রুয়ারিকে কিস্তির তারিখ ধরে (মাসের শেষ দিন হিসেবে), আবার কেউ ১ মার্চ বা ৩ মার্চকে ধরে। এই ক্যালকুলেটরটি আন্তর্জাতিক standard অনুসারে কাজ করে — যদি পরের মাসে সেই দিন না থাকে, সেটি মাসের শেষ দিনে ধরা হয়। আপনার প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভিন্ন হলে সেই তথ্য ব্যাংক থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
সাধারণভাবে দ্বি-সাপ্তাহিক (Bi-weekly) কিস্তিতে মোট সুদ কম হয়, কারণ বছরে ২৬টি কিস্তি হয় — অর্থাৎ মাসিক ১২টি কিস্তির সমতুল্য হলে বছরে ২৬ ÷ ২ = ১৩টি মাসিক কিস্তির সমান পরিশোধ হয়। এই বাড়তি ১টি কিস্তি মূলধন দ্রুত পরিশোধ করে, তাই মোট সুদ কম আসে। তবে মাসে দুইবার কিস্তি দেওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হয় — কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি মেনে চলা সহজ। হাতে নগদ ব্যবস্থাপনা যেভাবে সুবিধা হয়, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কিস্তির হিসাবে শুধু EMI ও সুদ ধরা হয়, কিন্তু প্রকৃত পরিশোধে আরও কিছু খরচ থাকে — (১) প্রসেসিং ফি: ঋণ নেওয়ার সময় ১-৩% চার্জ। (২) ইনস্যুরেন্স: কিছু ঋণে বাধ্যতামূলক, প্রায় ০.৫-১% বার্ষিক। (৩) ভ্যাট: সার্ভিস চার্জে ১৫% ভ্যাট। (৪) প্রি-পেমেন্ট পেনাল্টি: আগাম পরিশোধ করলে ২-৫% চার্জ। (৫) লেট ফি: কিস্তি দেরিতে দিলে অতিরিক্ত চার্জ। এই খরচগুলো যোগ করলে প্রকৃত পরিশোধ কিস্তির হিসাবের চেয়ে ৫-১৫% বেশি হতে পারে। ঋণ নেওয়ার আগে সব খরচের হিসাব নিন।