জমির শতাংশ–কাঠা–বিঘা–একর ক্যালকুলেটর

শতাংশ, কাঠা, বিঘা, একর, বর্গফুট ও বর্গমিটার — বাংলাদেশের জমির সব ইউনিট নির্ভুলভাবে রূপান্তর করুন ।

যেকোনো একটি ইউনিটে মান দিন — বাকি সব ইউনিট নির্ভুলভাবে রূপান্তর হবে।
জমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ দিয়ে মোট আয়তন এবং সব ইউনিটে রূপান্তর।
বাংলাদেশে জমির স্ট্যান্ডার্ড রূপান্তরের সারণি (সরকারি হিসেবে)।
📐 বেস ইউনিট
১
শতাংশ
= ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১
কাঠা
= ৭২০ বর্গফুট
১
বিঘা
= ২০ কাঠা
১
একর
= ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
🔢 শতাংশ থেকে অন্যান্য
১ শতাংশ
= ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১ শতাংশ
= ৪০.৪৭ বর্গমিটার
১০০ শতাংশ
= ১ একর
১ শতাংশ
= ১.০০ অযুতাংশ
📏 কাঠা থেকে অন্যান্য
১ কাঠা
= ৭২০ বর্গফুট
১ কাঠা
= ১.৬৫৩ শতাংশ
২০ কাঠা
= ১ বিঘা
১ কাঠা
= ১৬ ছটাক
🌾 বিঘা থেকে অন্যান্য
১ বিঘা
= ২০ কাঠা
১ বিঘা
= ১৪,৪০০ বর্গফুট
১ বিঘা
= ৩৩.০৫৭ শতাংশ
৩ বিঘা
= ১ একর (প্রায়)
🏞️ একর থেকে অন্যান্য
১ একর
= ৪৩,৫৬০ বর্গফুট
১ একর
= ১০০ শতাংশ
১ একর
= ৬০.৫ কাঠা
১ একর
= ৩.০২৫ বিঘা
🌍 আন্তর্জাতিক ইউনিট
১ হেক্টর
= ২.৪৭১ একর
১ হেক্টর
= ১০,০০০ বর্গমিটার
১ একর
= ০.৪০৫ হেক্টর
১ একর
= ৪,০৪৬.৮৬ বর্গমিটার
📐 দৈর্ঘ্যের একক
১ হাত
= ১.৫ ফুট (১৮ ইঞ্চি)
১ লিংক
= ০.৬৬ ফুট
১ চেইন
= ৬৬ ফুট
১ মিটার
= ৩.২৮ ফুট
⚠️ বাংলাদেশে জমির মাপে কিছু আঞ্চলিক পার্থক্য থাকতে পারে (যেমন সিলেট, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কানি/গন্ডার হিসাব ভিন্ন)। সরকারি দলিলে শতাংশ ও বর্গফুটই মূল ভিত্তি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন

জমির শতাংশ–কাঠা–বিঘা–একর ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

বাংলাদেশে জমির মাপ বোঝাতে একাধিক ধরনের একক ব্যবহার করা হয়। কোথাও শতাংশে হিসাব হয়, আবার জমি কেনাবেচার কথাবার্তায় কাঠা, বিঘা বা একরের ব্যবহারও বেশ পরিচিত। পুরোনো কোনো দলিলে আবার অন্য ধরনের এককও পাওয়া যেতে পারে। একই জমির মাপ বিভিন্ন এককে বলা হলে হিসাব মিলিয়ে নিতে সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে জমির দাম নির্ধারণের সময়। এই ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে একটি এককে জমির পরিমাণ লিখে অন্য এককগুলোতে তার সমপরিমাণ কত হয়, তা দ্রুত বের করা যায়।

জমির শতাংশ–কাঠা–বিঘা–একর ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

ক্যালকুলেটরে তিনটি আলাদা ট্যাব রয়েছে। যে ধরনের হিসাব দরকার, সেটি অনুযায়ী উপযুক্ত ট্যাব বেছে নিন।

১. ইউনিট রূপান্তর: প্রথমে যেকোনো একটি ঘরে জমির পরিমাণ লিখুন। অন্য এককগুলোর সমপরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো হবে। যেমন শতাংশের ঘরে ১০ লিখলে একই জমি কত কাঠা, বিঘা, একর বা বর্গফুটের সমান, তা একসঙ্গে দেখতে পারবেন। প্রয়োজনে বিস্তারিত রূপান্তরের সারণিও দেখে নেওয়া যাবে।

২. দৈর্ঘ্য × প্রস্থ: জমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জানা থাকলে এই ট্যাবটি ব্যবহার করুন। মাপ ফুট, মিটার, হাত, লিংক বা চেইনে দেওয়া থাকলেও সেই অনুযায়ী হিসাব করা যায়। বিশেষ করে পুরোনো দলিলে প্রচলিত কোনো মাপের একক থাকলে সেটিকে বর্গফুট বা অন্যান্য প্রচলিত এককে রূপান্তর করতে এই অপশনটি কাজে লাগবে।

৩. রেফারেন্স চার্ট: জমির বিভিন্ন এককের প্রচলিত রূপান্তরগুলো এক জায়গায় দেখতে এই ট্যাবটি ব্যবহার করুন। যেমন ১ শতাংশ, ১ কাঠা, ১ বিঘা বা ১ একর কত বর্গফুটের সমান—এ ধরনের তথ্য দ্রুত মিলিয়ে নেওয়া যাবে। জমি নিয়ে আলোচনা বা কোনো হিসাব যাচাই করার সময় চার্টটি কাজে আসতে পারে।

জমির শতাংশ–কাঠা–বিঘা–একর ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, একটি জমির পরিমাণ ৫ কাঠা। ক্যালকুলেটরের কাঠা ঘরে ৫ লিখলে প্রচলিত বাংলাদেশি মান অনুযায়ী এর সমপরিমাণ প্রায় ৮.২৬৪ শতাংশ, ০.২৫ বিঘা, ৩,৬০০ বর্গফুট, ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার এবং ০.০৮২৬ একর হিসেবে দেখা যাবে। প্রতি শতাংশের দাম ২০ লাখ টাকা হলে ৮.২৬৪ শতাংশ ধরে মোট দাম প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা হবে।

আরেকটি উদাহরণ ধরা যাক, কোনো পুরোনো দলিলে জমির মাপ ৩ চেইন × ২ চেইন লেখা আছে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের ঘরে এই মাপ বসালে মোট আয়তন প্রায় ৩৯,২০৪ বর্গফুট হবে। এরপর সেটিকে একর, শতাংশ বা কাঠায় রূপান্তর করে তুলনা করা যাবে। তবে পুরোনো দলিলের স্থানীয় একক বা মাপের সংজ্ঞা আলাদা হলে দলিলের সংশ্লিষ্ট তথ্য ও স্থানীয় ভূমি রেকর্ডকে প্রাধান্য দিতে হবে।

কিছু কাজের টিপস

  • ১ একর = ১০০ শতাংশ—এই সম্পর্কটি মনে রাখলে জমির বড় মাপ দ্রুত বোঝা যায়। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ জমি এবং ১ একর জমি একই পরিমাণ।
  • জমি কেনাবেচার সময় কাঠা বা বিঘায় কোনো দাম শুনলে সেটিকে শতাংশে রূপান্তর করে হিসাব মিলিয়ে নেওয়া ভালো। এতে বিভিন্ন প্রস্তাবের দাম তুলনা করা সহজ হয়।
  • প্রচলিত হিসাবে ১ বিঘা = ২০ কাঠা = ১৪,৪০০ বর্গফুট, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ শতাংশ। তবে জমির স্থানীয় মাপের রীতি ভিন্ন হতে পারে, তাই দলিল বা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রচলিত মান যাচাই করে নিন।
  • কিছু অঞ্চলে কানি, গন্ডা বা কড়া ধরনের স্থানীয় একক ব্যবহার করা হয়। এসব এককের মান এলাকাভেদে আলাদা হতে পারে। তাই কোনো দলিলে এমন মাপ থাকলে স্থানীয় ভূমি অফিস বা অভিজ্ঞ আমিনের কাছ থেকে মানটি নিশ্চিত করা নিরাপদ।
  • পুরোনো দলিলে লিংক ও চেইন দিয়ে জমির দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ লেখা থাকতে পারে। প্রচলিত মাপে ১ চেইন ৬৬ ফুট এবং ১ লিংক ০.৬৬ ফুট। তবে পুরোনো নথিতে ব্যবহৃত এককের অর্থ নিশ্চিত করে তারপর হিসাব করা উচিত।
  • ক্যালকুলেটরের হিসাব মূলত সংখ্যাগত রূপান্তরের জন্য। জমির প্রকৃত সীমানা বা আয়তন নিশ্চিত করতে হলে আমিন বা দক্ষ ভূমি জরিপকারীর মাধ্যমে সরেজমিনে মাপ নেওয়া ভালো।
  • জমি কেনাবেচার সময় চুক্তি বা দলিলে পরিমাণ ও একক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। শুধু কাঠা বা বিঘা বলার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী শতাংশ বা বর্গফুটের পরিমাণও উল্লেখ করলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমে।

সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে জমির প্রধান ইউনিট — শতাংশ (decimal), কাঠা, বিঘা, একর, বর্গফুট, অযুতাংশ, কানি, গন্ডা, কড়া। সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী — ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট = ৪০.৪৭ বর্গমিটার। ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট = ১.৬৫৩ শতাংশ। ১ বিঘা = ২০ কাঠা = ১৪,৪০০ বর্গফুট = ৩৩.০৫৭ শতাংশ। ১ একর = ১০০ শতাংশ = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট = ৬০.৫ কাঠা = ৩.০২৫ বিঘা। ১ হেক্টর = ২.৪৭১ একর = ১০,০০০ বর্গমিটার। এই ক্যালকুলেটরটি ঠিক এই মানগুলো ব্যবহার করে мгновенно রূপান্তর করে।
অযুতাংশ হলো শতাংশের ছোট একক। ১ শতাংশ = ১০০ অযুতাংশ। অথবা ১ অযুতাংশ = ০.০১ শতাংশ। জমির হিসাবে খুব ছোট অংশ বোঝাতে অযুতাংশ ব্যবহৃত হয় — যেমন কোনো জমির একটি ছোট টুকরা যদি ২৫ অযুতাংশ হয়, তার মানে সেটি ০.২৫ শতাংশ। সরকারি রেকর্ড বা নামজারিতে অনেক সময় দশমিক আকারে (০.২৫ শতাংশ) লেখা হয়, যা অযুতাংশ ও শতাংশ — দুইভাবেই বোঝানো যায়। ছোট জমির হিসাবে শতাংশের দশমিক অংশকে অযুতাংশে রূপান্তর করে দেখলে সংখ্যা বেশি স্পষ্ট হয়।
১ একর = ৩.০২৫ বিঘা, বা বলা যায় ৩ বিঘা প্রায় ১ একরের সমান। আবার ১ বিঘা = ২০ কাঠা = ১৪,৪০০ বর্গফুট = ৩৩.০৫৭ শতাংশ। বাংলাদেশে বড় জমি সাধারণত বিঘায় হিসাব হয়, তবে রাষ্ট্রীয় দলিলে সবসময় একর বা শতাংশে লেখা হয়। উদাহরণ — "২ বিঘা জমি" মানে প্রায় ০.৬৬ একর বা ৬৬.১১ শতাংশ। কৃষি জমি কেনাবেচায় বিঘা ব্যবহার বেশি হলেও ব্যাংক ঋণ বা সরকারি রেকর্ডে সবসময় শতাংশ বা একরে হিসাব হয়।
কানি, গন্ডা, কড়া — এই ইউনিটগুলো মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়, এবং জাতীয় মান থেকে কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ আঞ্চলিক হিসাব — ১ কানি = ২০ গন্ডা = ৪০ কড়া। ১ গন্ডা = ২ কড়া = ৮৬৪ বর্গফুট (প্রায়)। ১ কড়া = ২১৬ বর্গফুট (প্রায়)। এতে ১ কানি ≈ ১৭,২৮০ বর্গফুট ≈ ১.২ বিঘা ≈ ৩৯.৬৭ শতাংশ। তবে নির্দিষ্ট এলাকায় কানি/গন্ডার মান আলাদা হতে পারে — কখনো ১ কানি = ২০ গন্ডা, কখনো ৪০ গন্ডা। তাই জমি কেনাবেচায় স্থানীয় আমিনের সাথে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে সরকারি দলিল (দলিল, নামজারি, খতিয়ান, পর্চা) সবসময় শতাংশ ও অযুতাংশে জমির মাপ লেখা হয়। যেমন "জমির পরিমাণ ০.৩৫০০ একর" বা "৮.৫০ শতাংশ" — এই ধরনের লেখা দেখা যায়। কাঠা, বিঘা, কানি — এই ইউনিটগুলো মূলত অ-সরকারি লেনদেন ও আঞ্চলিক আলাপে ব্যবহৃত হয়। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির মাপ শতাংশে দিতে হয়। আবার যখন কেউ জমি কিনতে বা বিক্রি করতে চান, আলোচনা হয় কাঠায় বা বিঘায় — তাই দুই ধরনের ইউনিটের মধ্যে мгновенно রূপান্তর জানা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সংখ্যাগত বিভ্রান্তি না হয়।