মার্কস থেকে শতাংশ ক্যালকুলেটর

পরীক্ষার নম্বর থেকে শতাংশ, লেটার গ্রেড ও জিপিএ সহজেই বের করুন — যেকোনো বিষয়, যেকোনো নম্বরবিভাজনে কাজ করবে।

প্রাপ্ত নম্বর ও মোট নম্বর লিখুন — শতাংশ, লেটার গ্রেড ও জিপিএ একসাথে দেখাবে।
প্রতিটি বিষয়ের নম্বর ও তার মোট নম্বর আলাদা সারিতে দিন। "আরও সারি" চেপে যত খুশি বিষয় যোগ করতে পারবেন।
বিষয় প্রাপ্ত মোট
বিজ্ঞাপন

মার্কস থেকে শতাংশ ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই জানতে ইচ্ছে করে—মোট কত শতাংশ নম্বর পেলাম? একটি বিষয়ের নম্বর থেকে যেমন শতাংশ বের করতে হয়, তেমনি একাধিক বিষয়ের নম্বর যোগ করে সামগ্রিক শতাংশও জানতে হয়। স্কুল, কলেজ, ভর্তি পরীক্ষা বা অন্য কোনো পরীক্ষার ফল হিসাব করার সময় হাতে-কলমে হিসাব করতে গেলে ভুল হওয়ার সুযোগ থাকে।

এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে প্রাপ্ত নম্বর ও মোট নম্বর দিলেই সহজে শতাংশ বের করতে পারবেন। একাধিক বিষয় থাকলে প্রতিটি বিষয়ের নম্বর আলাদাভাবে যোগ করে মোট প্রাপ্ত নম্বর, মোট পূর্ণ নম্বর এবং সামগ্রিক শতাংশও একসঙ্গে দেখা যাবে।

মার্কস থেকে শতাংশ ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালকুলেটরে একটি বিষয় অথবা একাধিক বিষয়ের হিসাব করতে পারবেন।

১. এক বিষয়ের হিসাব: শুধু একটি বিষয়ের শতাংশ জানতে চাইলে প্রাপ্ত নম্বর এবং মোট নম্বর লিখুন। যেমন, ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৭৮ পেলে প্রাপ্ত নম্বরের ঘরে ৭৮ এবং মোট নম্বরের ঘরে ১০০ লিখে হিসাব করলেই ফলাফল হবে ৭৮%।

২. একাধিক বিষয়ের হিসাব: একাধিক বিষয়ের মোট শতাংশ জানতে প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর ও পূর্ণ নম্বর আলাদা করে লিখুন। প্রয়োজনে “আরও বিষয় যোগ করুন” অপশন ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করতে পারবেন। সব নম্বর দেওয়ার পর হিসাব করলে মোট প্রাপ্ত নম্বর, মোট পূর্ণ নম্বর এবং সামগ্রিক শতাংশ দেখতে পারবেন।

মার্কস থেকে শতাংশ ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, ছয়টি বিষয়ে আপনার নম্বর হলো—বাংলায় ৮৫, ইংরেজিতে ৭৮, গণিতে ৯২, পদার্থবিজ্ঞানে ৭৫, রসায়নে ৮০ এবং জীববিজ্ঞানে ৭০। প্রতিটি বিষয়ের পূর্ণ নম্বর ১০০ হলে মোট প্রাপ্ত নম্বর হবে ৪৮০ এবং মোট পূর্ণ নম্বর ৬০০। তাই সামগ্রিক শতাংশ হবে ৮০%।

আবার, কোনো একটি পরীক্ষায় মোট ২০ নম্বরের মধ্যে ১৬ পেলে শতাংশ হবে ৮০%। অর্থাৎ পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর ১০০ না হলেও সমস্যা নেই—প্রাপ্ত নম্বর ও মোট নম্বর ঠিকভাবে দিলেই ক্যালকুলেটর শতাংশ বের করে দিতে পারবে।

কিছু কাজের টিপস

  • একাধিক বিষয়ের সামগ্রিক শতাংশ বের করার সময় আগে সব প্রাপ্ত নম্বর যোগ করুন, তারপর সব বিষয়ের মোট নম্বর যোগ করুন। এরপর মোট প্রাপ্ত নম্বরকে মোট পূর্ণ নম্বর দিয়ে ভাগ করে শতাংশ বের করতে হয়।
  • প্রতিটি বিষয়ের শতাংশ আলাদাভাবে বের করে সেগুলোর সাধারণ গড় নিলে সব সময় সঠিক সামগ্রিক শতাংশ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে বিষয়গুলোর পূর্ণ নম্বর আলাদা হলে এই ভুলটি বেশি হতে পারে।
  • কোনো পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর ৫০, ২৫ বা অন্য কোনো সংখ্যা হলেও সেটিকে আগে ১০০-তে রূপান্তর করার দরকার নেই। প্রাপ্ত ও পূর্ণ নম্বর সরাসরি দিলেই শতাংশ হিসাব করা যায়।
  • স্কুল বা বোর্ড পরীক্ষার গ্রেড ও জিপিএ নির্ধারণের নিয়ম পরীক্ষা ও শিক্ষা বোর্ডভেদে আলাদা হতে পারে। তাই ক্যালকুলেটরে দেখানো গ্রেডের সঙ্গে আপনার পরীক্ষার অফিসিয়াল গ্রেডিং পদ্ধতিও মিলিয়ে দেখুন।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ আর সাধারণ শতাংশ এক বিষয় নয়। সিজিপিএ হিসাবের ক্ষেত্রে কোর্সের ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্টের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু মোট নম্বর থেকে শতাংশ বের করে সেটিকে সরাসরি সিজিপিএ হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

সাধারণ প্রশ্ন

শতাংশ বের করার নিয়ম খুব সহজ। সূত্র হলো — (প্রাপ্ত নম্বর ÷ মোট নম্বর) × ১০০। যেমন, ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৭৮ পেলে আপনার শতাংশ হবে ৭৮%। আবার ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ৩৫ পেলে হিসাব হবে (৩৫ ÷ ৫০) × ১০০ = ৭০%। একাধিক বিষয়ের ক্ষেত্রে আগে সব প্রাপ্ত নম্বর যোগ করতে হবে, এরপর সব বিষয়ের মোট নম্বর যোগ করে সেই অনুপাতে শতাংশ বের করতে হবে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত ৫.০০ স্কেলের গ্রেডিংয়ে ৮০ বা তার বেশি নম্বর হলে A+ (৫.০০), ৭০–৭৯ হলে A (৪.০০), ৬০–৬৯ হলে A- (৩.৫০), ৫০–৫৯ হলে B (৩.০০), ৪০–৪৯ হলে C (২.০০), ৩৩–৩৯ হলে D (১.০০) এবং ৩৩-এর নিচে F (০.০০) ধরা হয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল দেখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ গ্রেডিং নিয়ম অনুসরণ করাই ভালো। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড বা সিজিপিএ হিসাব আলাদা হতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো প্রতিটি বিষয়ের শতাংশ আলাদাভাবে বের করে সেগুলোর গড় নেওয়া। বিষয়গুলোর পূর্ণ নম্বর যদি এক না হয়, তাহলে এতে সঠিক সামগ্রিক শতাংশ নাও আসতে পারে। সঠিক পদ্ধতি হলো প্রথমে সব বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর যোগ করা, তারপর সব বিষয়ের পূর্ণ নম্বর যোগ করা। এরপর (মোট প্রাপ্ত নম্বর ÷ মোট পূর্ণ নম্বর) × ১০০ করলেই সামগ্রিক শতাংশ পাওয়া যাবে।
জিপিএ এবং শতাংশ ফলাফল প্রকাশের দুটি আলাদা পদ্ধতি। এগুলোকে সব ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্র দিয়ে একে অপরের মধ্যে রূপান্তর করা যায় না। কারণ গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা দেশের নির্দিষ্ট গ্রেডিং কাঠামো ব্যবহার করা হয়। তাই কোনো ফলাফলের শতাংশ দেখে জিপিএ জানতে হলে সেই পরীক্ষার অফিসিয়াল গ্রেডিং পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ হিসাবের ক্ষেত্রে কোর্সের ক্রেডিট ও গ্রেড পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু সামগ্রিক শতাংশ বেশি হলেই সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিশ্চিত নয়। অনেক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা ন্যূনতম পাস নম্বর থাকে। ফলে কোনো একটি বিষয়ে নির্ধারিত পাস নম্বরের নিচে পেলে ওই বিষয়ে অকৃতকার্য হতে পারেন, যদিও সব বিষয় মিলিয়ে মোট শতাংশ ভালো হয়। তাই ফলাফল যাচাই করার সময় মোট শতাংশের পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পাসের শর্তও দেখে নেওয়া জরুরি।