বেতন বৃদ্ধির ক্যালকুলেটর

পুরোনো ও নতুন বেতন দিয়ে বেতন কত শতাংশ বেড়েছে, ইনক্রিমেন্টের পরিমাণ এবং বার্ষিক বেতন—সব হিসাব একসঙ্গে বের করুন।

পুরোনো ও নতুন মাসিক বেতন লিখুন — শতাংশ বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্ট পরিমাণ ও বার্ষিক প্রভাব একসাথে দেখাবে।
বর্তমান বেতন ও কাঙ্ক্ষিত শতাংশ বৃদ্ধি লিখুন — নতুন কাঙ্ক্ষিত বেতন বের হবে।
বিজ্ঞাপন

বেতন বৃদ্ধির ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

বেতন বাড়ার পর অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে—আসলে কত শতাংশ বেতন বেড়েছে? মাসে কত টাকা বেশি পাবেন? আর পুরো বছরে বাড়তি আয় কত হবে? হাতে কাগজ-কলম নিয়ে এসব হিসাব করতে গেলে অনেক সময় ছোটখাটো ভুল হয়ে যায়। বিশেষ করে পুরোনো বেতন, নতুন বেতন এবং ইনক্রিমেন্টের পরিমাণ একসঙ্গে মিলিয়ে দেখতে গেলে হিসাবটা একটু ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়।

এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে পুরোনো ও নতুন বেতন লিখেই সহজে জানতে পারবেন বেতন কত শতাংশ বেড়েছে, মাসে কত টাকা ইনক্রিমেন্ট হয়েছে এবং বছরে মোট কত টাকা বাড়তি আয় হবে।

বেতন বৃদ্ধির ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

আপনার কী ধরনের হিসাব দরকার তার ওপর ভিত্তি করে ক্যালকুলেটরের দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারবেন।

১. বেতন কতটা বেড়েছে জানতে: আপনার আগের মাসিক বেতন এবং বর্তমানে নতুন মাসিক বেতন লিখুন। এরপর ক্যালকুলেটরটি বেতন বৃদ্ধির হার, মাসে কত টাকা বেড়েছে, নতুন বার্ষিক বেতন এবং বছরে কত টাকা বেশি পাবেন—সবগুলো হিসাব করে দেখাবে।

যেমন, আগে যদি আপনার বেতন ৩০,০০০ টাকা হয় এবং এখন ৩৭,৫০০ টাকা হয়, তাহলে বেতন বেড়েছে ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি মাসে ৭,৫০০ টাকা বেশি এবং বছরে মোট ৯০,০০০ টাকা বাড়তি পাবেন।

২. নির্দিষ্ট শতাংশ ইনক্রিমেন্টে নতুন বেতন জানতে: ধরুন, আপনার বর্তমান বেতন ৪৫,০০০ টাকা এবং কোম্পানি ১২ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তখন বর্তমান বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হার লিখলেই নতুন বেতন কত হবে তা বের করে নিতে পারবেন।

বেতন বৃদ্ধির ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, আপনার বর্তমান মাসিক বেতন ৪৫,০০০ টাকা। কোম্পানি এবার ১০ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেবে। হিসাব করলে নতুন বেতন হবে ৪৯,৫০০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ৪,৫০০ টাকা বেশি পাবেন এবং ১২ মাসে মোট ৫৪,০০০ টাকা বাড়তি আয় হবে।

আবার ধরুন, আপনার আগের বেতন ছিল ৩৫,০০০ টাকা। পদোন্নতির পর সেটি বেড়ে ৪৫,৫০০ টাকা হয়েছে। আগের ও নতুন বেতন ক্যালকুলেটরে বসালে দেখা যাবে, বেতন বেড়েছে ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ মাসে ১০,৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিছু কাজের টিপস

  • বেতন বৃদ্ধির হার বের করার সময় আগের মূল বেতনকে ভিত্তি ধরুন। শুধু নতুন বেতন থেকে পুরোনো বেতন বাদ দিলেই কত শতাংশ বেড়েছে তা জানা যায় না।
  • বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে যদি ভাতা, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা পরিবর্তন হয়, সেগুলো আলাদাভাবে হিসাব করুন। এই ক্যালকুলেটর মূল বেতনের বৃদ্ধির হিসাব দেখায়।
  • প্রতি বছর একই হারে বেতন বাড়লে মোট বৃদ্ধি সরাসরি শতাংশগুলো যোগ করে হিসাব করা ঠিক নয়। এক বছরের বাড়তি বেতন পরের বছরের হিসাবের ভিত্তি হলে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।
  • নতুন বেতন নিয়ে আলোচনা করার সময় আগের কয়েক বছরের বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হিসাব দেখে রাখলে নিজের অবস্থাটা বোঝা সহজ হয়।
  • বেতন বাড়লেও হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ একই হারে নাও বাড়তে পারে। কর, ঋণের কিস্তি বা অন্যান্য কর্তন থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

বেতন কত শতাংশ বেড়েছে তা বের করার সহজ সূত্র হলো — (নতুন বেতন − পুরোনো বেতন) ÷ পুরোনো বেতন × ১০০। ধরুন, আপনার আগের বেতন ছিল ৩০,০০০ টাকা এবং এখন হয়েছে ৩৭,৫০০ টাকা। তাহলে বেতন বেড়েছে ৭,৫০০ টাকা। হিসাব করলে (৭,৫০০ ÷ ৩০,০০০) × ১০০ = ২৫%। অর্থাৎ আপনার বেতন ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এখানে মূল বিষয় হলো, বৃদ্ধির শতাংশ বের করার সময় পুরোনো বেতনকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
মাসিক ইনক্রিমেন্ট বলতে বোঝায় প্রতি মাসে আগের তুলনায় কত টাকা বেশি বেতন পাচ্ছেন। আর এক বছরে সেই বাড়তি টাকার পরিমাণ জানতে মাসিক বৃদ্ধিকে ১২ দিয়ে গুণ করতে হয়। যেমন, মাসে ৭,৫০০ টাকা বেতন বাড়লে ১২ মাসে মোট বাড়তি আয় হবে ৯০,০০০ টাকা। তাই নতুন চাকরি বা বেতন নিয়ে আলোচনা করার সময় মাসিকের পাশাপাশি পুরো বছরের হিসাবটাও দেখে নেওয়া ভালো।
প্রমোশনের সঙ্গে পদ বা দায়িত্ব পরিবর্তন হতে পারে, তবে শুধু বেতন কত শতাংশ বেড়েছে সেটা জানতে আগের ও নতুন মাসিক বেতনই যথেষ্ট। ধরুন, প্রমোশনের আগে বেতন ছিল ৪০,০০০ টাকা এবং পরে হয়েছে ৫২,০০০ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে ১২,০০০ টাকা। এবার (১২,০০০ ÷ ৪০,০০০) × ১০০ করলে পাওয়া যাবে ৩০%। অর্থাৎ বেতন ৩০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রমোশনের সঙ্গে ভাতা, বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা পরিবর্তন হলে সেগুলোর হিসাব আলাদাভাবে করতে হবে।
বেতন বাড়লেই যে আগের তুলনায় আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে, এমনটা সব সময় নয়। একই সময়ে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য খরচের দামও বেড়ে যায়, তাহলে বাড়তি বেতনের একটি অংশ সেই বাড়তি খরচেই চলে যেতে পারে। যেমন, বেতন ৫% বাড়ল কিন্তু একই সময়ে জীবনযাত্রার খরচ ৭% বেড়ে গেল, তাহলে শুধু বেতনের অঙ্ক দেখলে ৫% বৃদ্ধি মনে হলেও ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে পরিস্থিতি ততটা ভালো নাও হতে পারে। তাই নিজের ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও ব্যক্তিগত খরচের পরিবর্তনও বিবেচনা করা ভালো।
নতুন বেতন নিয়ে কথা বলার আগে নিজের বর্তমান বেতন, মাসিক খরচ, একই ধরনের পদের প্রচলিত বেতন এবং সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির বিষয়গুলো বিবেচনা করতে পারেন। এরপর আপনি কত টাকা বেতন চান সেটা ঠিক করে আগের বেতনের তুলনায় সেটি কত শতাংশ বৃদ্ধি তা বের করুন। যেমন, বর্তমান বেতন ৫০,০০০ টাকা আর আপনার লক্ষ্য ৬৫,০০০ টাকা হলে বৃদ্ধি হবে ১৫,০০০ টাকা বা ৩০%। ক্যালকুলেটরের টার্গেট বেতন অংশ ব্যবহার করেও নির্দিষ্ট শতাংশ অনুযায়ী নতুন বেতন কত দাঁড়ায় তা আগে থেকে দেখে নিতে পারবেন।