এসএসসি / এইচএসসি GPA ক্যালকুলেটর

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক গ্রেড দিয়ে GPA, লেটার গ্রেড ও সামগ্রিক ফলাফল এক ক্লিকে বের করুন।

প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট (৫.০০, ৪.০০, ৩.৫০...) আলাদা সারিতে দিন। ৪র্থ বিষয় (ঐচ্ছিক) থাকলে দুটি ভাগে ভাগ করে দিন — ক্যালকুলেটরটি নিজেই চতুর্থ বিষয়ের নিয়ম মেনে হিসাব করবে।
বিষয় গ্রেড পয়েন্ট
বিজ্ঞাপন

এসএসসি / এইচএসসি GPA ক্যালকুলেটর কেন ব্যবহার করবেন

এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে—সব বিষয় মিলিয়ে GPA কত হয়েছে? ফলাফলের কাগজে প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড ও গ্রেড পয়েন্ট আলাদাভাবে দেওয়া থাকে। সেগুলো দেখে নিজের GPA বের করা কঠিন নয়, তবে একাধিক বিষয় এবং চতুর্থ বিষয়ের হিসাব থাকলে একটু সতর্কভাবে হিসাব করতে হয়।

এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট দিলেই সহজে GPA বের করতে পারবেন। চতুর্থ বিষয় থাকলে সেটির জন্য প্রযোজ্য নিয়মও হিসাবের মধ্যে নেওয়া যাবে। ফলে হাতে আলাদা করে যোগ-বিয়োগ করার ঝামেলা কমে যায়।

এসএসসি / এইচএসসি GPA ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমে প্রতিটি বিষয়ের নাম চাইলে লিখুন। বিষয়ের নাম না দিলেও সমস্যা নেই। এরপর প্রতিটি বিষয়ের জন্য ফলাফলে পাওয়া গ্রেড পয়েন্ট নির্বাচন করুন। সাধারণভাবে ব্যবহৃত গ্রেড পয়েন্টগুলো হলো—

A+ = ৫.০০, A = ৪.০০, A- = ৩.৫০, B = ৩.০০, B- = ২.৫০, C = ২.০০, C- = ১.৫০, D = ১.০০, F = ০.০০

বিষয়ের সংখ্যা বেশি হলে “আরও বিষয় যোগ করুন” অপশন ব্যবহার করে নতুন সারি যুক্ত করুন। সব বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট দেওয়া হয়ে গেলে “GPA হিসাব করুন” বাটনে চাপ দিলেই ফলাফল দেখতে পারবেন।

চতুর্থ বিষয় থাকলে: ক্যালকুলেটরে চতুর্থ বিষয়ের অপশনটি নির্বাচন করুন। চতুর্থ বিষয়ের অতিরিক্ত গ্রেড পয়েন্ট কীভাবে মূল GPA-তে যুক্ত হবে, সেটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করা হবে। তাই নিজের ফলাফলে ঐচ্ছিক বিষয় থাকলে সেটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি।

এসএসসি / এইচএসসি GPA ক্যালকুলেটর বাস্তব উদাহরণ

ধরুন, কয়েকটি বিষয়ে আপনার গ্রেড পয়েন্ট হলো—পদার্থবিজ্ঞানে ৫.০০, রসায়নে ৪.০০, জীববিজ্ঞানে ৪.০০, উচ্চতর গণিতে ৩.৫০, বাংলায় ৫.০০, ইংরেজিতে ৪.০০ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৫.০০। এই গ্রেড পয়েন্টগুলো ক্যালকুলেটরে বসালে সবগুলো মিলিয়ে গড় GPA কত দাঁড়ায় তা সহজেই জানা যাবে।

আর যদি চতুর্থ বিষয় থাকে, তাহলে সেটিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে গ্রেড পয়েন্ট দিতে হবে। চতুর্থ বিষয়ের ক্ষেত্রে পুরো গ্রেড পয়েন্ট সাধারণ বিষয়ের মতো সরাসরি গড়ে যোগ হয় না; প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত অংশ GPA-তে যুক্ত হয়। ক্যালকুলেটরটি এই হিসাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দেবে।

কিছু কাজের টিপস

  • এসএসসি বা এইচএসসির GPA হিসাব করার আগে ফলাফলের কাগজে থাকা প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট ঠিকভাবে দেখে নিন। একটি গ্রেড ভুল দিলে পুরো হিসাব বদলে যেতে পারে।
  • কোনো বিষয়ে F থাকলে শুধু গড় GPA দেখলেই হবে না। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পাসের নিয়মও বিবেচনা করতে হবে।
  • চতুর্থ বিষয় সাধারণ বিষয়ের মতো সরাসরি GPA-তে যোগ করা হয় না। অতিরিক্ত গ্রেড পয়েন্ট কীভাবে যুক্ত হবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করতে হয়।
  • এসএসসি ও এইচএসসির GPA আলাদাভাবে হিসাব করা হয়। দুটি পরীক্ষার GPA একসঙ্গে যোগ করে একটি সাধারণ GPA তৈরি করা ঠিক নয়।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা চাকরির আবেদনের সময় প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলের শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই শুধু GPA নয়, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগ্যতার শর্তও দেখে নিন।

সাধারণ প্রশ্ন

GPA-এর পূর্ণরূপ হলো Grade Point Average। সহজভাবে বললে, এটি বিভিন্ন বিষয়ের গ্রেড পয়েন্টের গড়। এসএসসি ও এইচএসসির প্রচলিত গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। এরপর প্রযোজ্য বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের হিসাব করে সামগ্রিক GPA বের করা হয়। যেমন, ৬টি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্টের মোট যোগফল ২৪.৫০ হলে সরল গড় হিসেবে GPA হবে ২৪.৫০ ÷ ৬ = ৪.০৮। তবে চতুর্থ বিষয় থাকলে সেটির হিসাব সাধারণ বিষয়ের মতো সরাসরি গড়ে যোগ হয় না।
লেটার গ্রেড হলো ফলাফলের অক্ষরভিত্তিক প্রকাশ, আর গ্রেড পয়েন্ট হলো সেই গ্রেডের সংখ্যামান। যেমন A+ এর গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০, A-এর ৪.০০, A- এর ৩.৫০, B-এর ৩.০০, B- এর ২.৫০, C-এর ২.০০, C- এর ১.৫০ এবং D-এর ১.০০। F-এর গ্রেড পয়েন্ট ০.০০। GPA হিসাব করার সময় মূলত এই গ্রেড পয়েন্টগুলোই ব্যবহার করা হয়।
চতুর্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট সাধারণ বিষয়ের মতো পুরোটা GPA হিসাবের সঙ্গে যোগ করা হয় না। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ঐচ্ছিক বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ২.০০-এর বেশি হলে ২.০০ বাদ দেওয়ার পর যে অংশ থাকে, সেটি GPA হিসাবের সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়। যেমন, চতুর্থ বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ হলে অতিরিক্ত অংশ হবে ১.৫০। আর গ্রেড পয়েন্ট ২.০০ বা তার কম হলে কোনো অতিরিক্ত অংশ যোগ হয় না।
কোনো বিষয়ে F পাওয়া শুধু GPA-এর গড় কমিয়ে দেয়—বিষয়টি এতটা সরল নয়। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিষয়ে নির্ধারিত পাস নম্বর না পেলে পরীক্ষার ফল অকৃতকার্য হতে পারে। তাই অন্য বিষয়গুলোতে ভালো গ্রেড থাকলেও একটি বিষয়ে F থাকলে শুধু সামগ্রিক GPA দেখে ফলাফলকে উত্তীর্ণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ফলাফল যাচাই করার সময় বিষয়ভিত্তিক গ্রেড এবং বোর্ডের পাসের নিয়ম দুটোই দেখতে হবে।
এসএসসি বা এইচএসসির GPA এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের CGPA একভাবে হিসাব করা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট আলাদা থাকে। তাই কোনো কোর্সের গ্রেড পয়েন্টের পাশাপাশি সেই কোর্সের ক্রেডিটও হিসাবের মধ্যে আসে। সাধারণ সূত্র হলো (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট)-এর মোট যোগফল ÷ মোট ক্রেডিট। অন্যদিকে স্কুল-কলেজের বোর্ড পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নির্ধারিত গ্রেডিং ও চতুর্থ বিষয়ের নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের CGPA বের করার সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।